আবাস দুর্নীতির অভিযোগে উপপ্রধানের বাড়িতে তাণ্ডব!

নিজস্ব চিত্র

আবাস যোজনা প্রকল্পে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ-সহ একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার শ্যামপুরের নাকোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। অভিযোগের নিশানায় ছিলেন নাকল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সদানন্দ দাস। তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে শ্যামপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‌্যাফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে নাকোল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সদানন্দ দাস দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পঞ্চায়েত প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বহু গ্রামবাসী তাঁর ধুধুট্টি এলাকার দোতলা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময় সদানন্দ দাস বাড়িতে না থাকলেও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজিত জনতা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘরের ভিতরে থাকা সোফা-সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র টেনে বাইরে এনে ভেঙে ফেলা হয়। বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। বাড়ির সামনে থাকা দু’টি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরিবারের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পোশাক পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সদানন্দ দাস।


ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় শ্যামপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‌্যাফ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।  ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এখনও কড়া পুলিশি নজরদারি চলছে।

ঘটনার পর সদানন্দ দাস বলেন, ‘আমি ডাক্তার দেখাতে বাইরে গিয়েছিলাম। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে। এটা সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিত হামলা। আমার পরিবারের ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। তাদের স্কুলের পোশাক পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র, মোটরবাইক  ভেঙে  পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’

অন্যদিকে, এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সহ-সভাধিপতি তুষার ঘোষ বলেন,’যদি কেউ আবাস যোজনার টাকা নিয়ে থাকে বা কোনও দুর্নীতি কিংবা অপরাধ করে থাকে, তাহলে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। প্রশাসনের দ্বারস্থ হোন। এখন প্রশাসন অত্যন্ত কড়া। প্রশাসনের কাজ প্রশাসনকে করতে দিন। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।