সুপ্রিম নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদল হল রাজগঞ্জের বিডিও। তাঁর বদলে দায়িত্ব নিলেন সৌরভকান্তি মণ্ডল। এর আগে তিনি রাজগঞ্জেরই যুগ্ম বিডিও পদে নিযুক্ত ছিলেন। সোমবার সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তার পরেই বদল করা হল রাজগঞ্জের বিডিওকে।
মঙ্গলবার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিও সৌরভকে সম্বর্ধনা দেন স্থানীয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়। বিধায়ক বলেন, ‘থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজে এ বার গতি আসবে। সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল।’ গত বছর অক্টোবর মাসে নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে উদ্ধার করা হয় স্বর্ণকার স্ব্পনের দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নাম জড়ায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্তের। তাঁকেই ‘মূল অভিযুক্ত’ বলে চিহ্নিত করে বিধাননগর থানার পুলিশ। তবে এর পর থেকেই ‘গা ঢাকা’ দেন প্রশান্ত।
প্রশান্তের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে সরব হয় বিরোধীরা। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পরই রাজগঞ্জের বিডিও বদল করা হল। গ্রেপ্তারি এড়াতে প্রশান্ত বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রথমে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আর্জি জানান তিনি। সেই আর্জি মঞ্জুরও হয়। তার পরেই বারাসত আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ।
হাইকোর্ট বারাসাত আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। আগাম জামিন খারিজ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্তকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন প্রশান্ত।
সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খায় রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পরে প্রশান্ত জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ নিম্ন আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সেই রায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদল হল রাজগঞ্জের বিডিও।