ভোটে ভয়মুক্ত পরিবেশে জোর রাজ্যপালের, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু লোকভবনের

নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে ভয়মুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে লোকভবনের পক্ষ থেকে।

রাজ্যপালের নির্দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকার করাই এই পরিষেবার মূল লক্ষ্য।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। অতীতের একাধিক নির্বাচনে হিংসা, ভয় দেখানো এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া বা প্রতিবাদ করলে হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এই প্রেক্ষাপটে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশবাহিনীও সতর্ক রয়েছে। তবে নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এই হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

এই পরিষেবার মাধ্যমে যে কোনও নাগরিক তাঁর অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় করেও সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

উদ্যোগটির উদ্দেশ্য, কোনও ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। এই হেল্পলাইন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নাগরিকদের জন্য একাধিক ফোন নম্বর চালু করা হয়েছে— ০৩৩-২২০০ ১০২২, ০৩৩-২২০০ ১০২৩, ০৩৩-২২০০ ১০২৫, ০৩৩-২২০০ ১০২৬, ০৩৩-২২০০ ১০২৭, ০৩৩-২২০০ ১০২৮, ০৩৩-২২০০ ১০২৯, ০৩৩-২২০০ ১০৩২, ০৩৩-২২০০ ১০৩৬। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ই-মেল মারফতও অভিযোগ জানানো যাবে। সেই ই-মেল আইডি হল: lokbhavanbengalhelpline@gmail.com

সবশেষে নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়েছে, গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিন এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।