রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই উন্নয়নের জোয়ার শুরু হয়েছে। রেল, মেট্রো থেকে শুরু করে জলপথে নানা উন্নয়নমূলক পরিষেবা নিয়ে আসা হচ্ছে। বিমানবন্দর যেমন তৈরি হচ্ছে তেমন ওয়াটার ট্যাক্সি গড়ে উঠছে। মেট্রো সম্প্রসারণ যেমন ঘটছে তেমন একাধিক রেল প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। সুতরাং জল, স্থল এবং আকাশ সর্বত্র উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যের ১৭টি রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। প্রত্যেকটিই নিউ লাইন প্রজেক্ট। এবার রাজ্যসভায় লিখিতভাবে যাবতীয় প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা জানিয়ে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এদিকে কিছুদিন আগে রাজ্যে এসেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ ঘুরে দেখেছিলেন। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে এবার একের পর এক রেল প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। জমিজট কেটে যাবে। এই রাজ্যের মানুষজনকে রেলের মাধ্যমে ব্যাপক পরিষেবা দেওয়া হবে। যদিও আগের তৃণমূল আমলে প্রকল্পগুলির বাদ পড়ার কারণ হিসাবে তৎকালীন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতাকেই দায়ী করেছেন রেলমন্ত্রী। এই বিষয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে রেল প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি আনতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার উপর আরও সরকারি বাস নামানো হচ্ছে দুর্গাপুজোর আগেই বলে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তার সঙ্গে রেল, মেট্রো এবং ওয়াটার ট্যাক্সি যোগ হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দিগন্ত খুলে যাবে। এই আবহে এদিন রাজ্যসভায় বাংলার রেল প্রকল্প নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন রাজ্য বিজেপির সাংসদ রাহুল সিনহা। তার জবাবে রেলমন্ত্রী বলেছেন, ‘রাজ্যে যেসব রেল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল সেটার একটি বড় অংশই আগের সরকারের অসহযোগিতা, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা, আইনশৃঙ্খলা সমস্যার কারণে বাস্তবায়িত করা যায়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আবার পশ্চিমবঙ্গের ওই ১৭টি রেল প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে।’
তাছাড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এই রাজ্যে বাড়ানো হচ্ছে। আরও বেশ কয়েকটি এসি লোকাল ট্রেন চালু করা হচ্ছে। হাওড়া, শিয়ালদহে বাড়তি দূরপাল্লার ট্রেন চালু করা হচ্ছে। মেট্রো রেলের পরিষেবা ব্যারাকপুর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সমীক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ইউপিএ জমানায় ২০০৯-১৪ সালের মধ্যে রেল প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রত্যেক বছর গড়ে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ হতো। কিন্তু এখন মোদী সরকারের জমানায় শুধুমাত্র ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেলে মোট ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কংগ্রেস আমলের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।