পশ্চিমবঙ্গের রেল প্রকল্প নিয়ে বড় খবর দিলেন রেলমন্ত্রী, তিনগুণ বেশি অর্থ বরাদ্দ

Rail Minister Ashwini Vaishnav Photo-SNS

পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে গত কয়েক বছরে ব্যাপক হারে বরাদ্দ বেড়েছে বলে জানিয়ে দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে একাধিক রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজে গতি এসেছে। আর মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকী রাজ্যে রেলের সম্প্রসারণ এবং বাজেট বরাদ্দের বিশদ খতিয়ানও সংসদে পেশ করেছেন রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১৪ সালের গড়ে যেখানে রাজ্য রেল বাজেটে বরাদ্দ ছিল বছরে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেটা তিনগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। এখন পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মোট ৬৩টি রেল প্রকল্প অনুমোদিত আছে। তার মধ্যে রয়েছে ১৪টি নতুন রেললাইন, ৪টি গেজ পরিবর্তনের প্রকল্প এবং ৪৫টি ডাবলিং প্রকল্প। সব মিলিয়ে ৫,১৪৮ কিলোমিটার রেলপথের এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩,৪৩৩ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১,৭২১ কিলোমিটার রেললাইন চালু হয়েছে এবং প্রকল্পগুলিতে ২৭,৯৪৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

রামপুরহাট-মান্দারহিল ১৩০ কিমি নতুন লাইনের জন্য ৯০৮ কোটি টাকা, আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ ৭ কিমি নতুন লাইনের ক্ষেত্রে ১৬৪ কোটি টাকা, বর্ধমান-কাটোয়া ৫২ কিমি গেজ পরিবর্তন করার খাতে ৬৯৬ কোটি টাকা এবং আহমেদপুর-কাটোয়া ৫২ কিমি গেজ পরিবর্তন খাতে ৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাঁশকুড়া-খড়গপুর ৪৫ কিমি ডবলিং করার ক্ষেত্রে ৪০৮ কোটি টাকা, অম্বারি ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি ৩৮ কিমি ডবলিং কাজের জন্য ৮৪৩ কোটি টাকা, ব্যান্ডেল-বৈঁচি ৩১ কিমি ৩ লাইন করার ক্ষেত্রে ৫৪৬ কোটি টাকা এবং মনিগ্রাম-নিমতিতা ২৪ কিমি ডবলিং করতে ৭১৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।


তাছাড়া রেলমন্ত্রী এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মে মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে জমি অধিগ্রহণের কাজে উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রগতি হয়েছে। তার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পেও কাজ এগোতে শুরু করেছে। সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১,৯৭৩ কোটি টাকা। তারাকেশ্বর-বিষ্ণুপুর ৮৩ কিমি কাজে ১,৫৪২ কোটি টাকা, বালুরঘাট-হিলি ৩০ কিমি কাজে ১,২০৯ কোটি টাকা এবং কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর ৩৩ কিমি কাজের জন্য ১,১৪৭ কোটি টাকা নতুন লাইনের নির্মাণকাজ জারি রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে ৪৬ হেক্টর জমির ক্ষতিপূরণের জন্য কত টাকা দেওয়া হবে তা প্রকাশ হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে আরও ১২২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। আর খড়গপুর-আদিত্যপুর ১৩২ কিমি ৩য় লাইনের জন্য ৩,৪৫০ কোটি টাকা, নারায়ণগড়-ভদ্রক ১৫৩ কিমি ৩য় লাইন করতে ৩,৪২৫ কোটি টাকা, সাঁতরাগাছি-খড়গপুর ১১১ কিমি ৪র্থ লাইন কাজের জন্য ২,৯০৫ কোটি টাকা এবং আলুয়াবাড়ি রোড-নিউ জলপাইগুড়ি ৫৭ কিমি ৩য় ও ৪র্থ লাইন করতে ১,৬৩০ কোটি টাকা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।