ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বেলডাঙা। রেললাইন ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় মানুষ। টানা সাড়ে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার ট্রেন ও বাসযাত্রী। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাকরি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মেলায় শেষ পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় রেল ও সড়ক চলাচল।
নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ এবং তাঁর বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর তালপাড়ার বাসিন্দা। প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঝাড়খণ্ডে যান আলাউদ্দিন। সেখানে তিনি ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। শুক্রবার সকালে খবর আসে, ঝাড়খণ্ডে ভাড়াঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আলাউদ্দিনকে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এবং পরে আত্মহত্যার ছক সাজানো হয়েছে। প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীদের দাবি, ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ‘বাংলার শ্রমিক’ হওয়ার কারণেই তাঁকে হেনস্তা ও মারধর করা হচ্ছিল।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃত্যুর দু’দিন আগেও আলাউদ্দিন ফোন করে আতঙ্কিত স্বরে কথা বলেন এবং হেনস্থার কথা জানান। গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আধার কার্ড দেখালেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়, তারপরই বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল।