মামলাকারীদের আইনজীবী গৌতম ঠাকুর জানান, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সকল আবেদনকারীই বকেয়া পাওয়ার অধিকারী। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাঁদের অর্থ আটকে রাখা হয়েছিল। ২০১৫ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভার বোর্ডের আমলে ২৭১টি প্রকল্পের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজ ২০১৬ সালের মধ্যেই শেষ করেন প্রায় ২০০ জন ঠিকাদার। কিন্তু ২০১৭ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এসডিও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই ওই কাজগুলি করা হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ঠিকাদারদের বিল আটকে যায়।
পরবর্তীতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালে তারা রিপোর্ট দিয়ে জানান, যে টেন্ডার প্রক্রিয়া বা কাজে কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। তবুও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ঠিকাদাররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কাজের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতির উল্লেখ নেই এবং পুরসভাই ঠিকাদারদের কাজের শংসাপত্র দিয়েছে। ফলে সকল মামলাকারীর তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অধিকারী। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের ১৫ লক্ষ, ১৪ লক্ষ, ১০ লক্ষ, ৫ লক্ষ বা অন্য যে পরিমাণ বকেয়া রয়েছে, তা সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে।