পরম ভক্তি, নিষ্ঠা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মায়াপুরে পালিত হল রাধারানীর শুভ আবির্ভাব তিথি ‘রাধাষ্টমী’। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) বিশ্ব সদর দপ্তর মায়াপুরের পাশাপাশি সারা বিশ্বের বিভিন্ন ইসকন কেন্দ্রেও একযোগে এই পবিত্র উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
রাধাষ্টমী উপলক্ষে মায়াপুর মন্দির চত্বর দিনভর মুখরিত ছিল নামসংকীর্তন, প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচারে। এই শুভ তিথিতে শ্রীমতি রাধারানীর কৃপালাভের আশায় দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত মায়াপুরে সমবেত হন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত ভক্তদের এই মিলনমেলা মায়াপুর ধামকে এক উৎসবের চেহারায় ভরিয়ে তোলে।
বিপুল সমাগমের বিষয়টি বিবেচনা করে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন ইসকন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস রাধারানী বন্দনার শ্লোক পাঠ করেন। বৈষ্ণব দর্শনের গভীরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী প্রায় ৫ হাজার ২৫৩ বছর আগে পবিত্র রাভালে শ্রীমতি রাধারানীর আবির্ভাব ঘটেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি যেমন জন্মাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়। তেমনই তাঁর পরম শক্তি শ্রীমতি রাধারানীর আবির্ভাব তিথি বিশ্বজুড়ে রাধাষ্টমী হিসেবে উদযাপিত হয়।’ তিনি যোগ করেন, তত্ত্বগতভাবে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানী আলাদা নন। তারা ‘এক আত্মা, দুই তনুধারী’।
আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির সঙ্গে ফিরতে পারে গরম, সপ্তাহান্তে কি ভিজবে উত্তর-দক্ষিণ?
সেই সুপ্রাচীন ভক্তি ও ঐতিহ্যের ধারাকে বজায় রেখেই প্রতি বছরের মতো এবারও মায়াপুরে রাধাষ্টমী উৎসব অসীম ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হল।