জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ও বরাদ্দকৃত উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে – বিশাল লামা

Image: IANS

পশ্চিমবঙ্গের কালচিনি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান জয়গাঁও ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জোর দিচ্ছেন, শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ও বরাদ্দকৃত উন্নয়নমূলক কাজ সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, যা এতদিন হয়নি।
প্রশ্ন – স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আপনি। এতগুলো দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে অসুবিধা হচ্ছে না?
উত্তর – না অসুবিধা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে এক এক করে কেন্দ্রীয় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প মানুষের যাতে কাজে লাগে, তার দ্রুত ব্যবস্থা করছি। পূর্বতন সরকারের আমলে চা বাগানে শ্রমিকরা বঞ্চিত ছিলেন। চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের উন্নয়নের প্রকল্পে জোর দিতে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন এতদিন থমকে ছিল। আর তা হবে না। আমি নিজে চা বাগানে থাকি। এতদিন চা শ্রমিকদের বঞ্চনা করা হয়েছে। আর তা হবে না।
প্রশ্ন – এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি কোন কাজটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর – উত্তরবঙ্গের, বিশেষ করে পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খা, আদিবাসী এবং অন্যান্য অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ১৫ বছর ধরে অত্যাচারের শিকার। বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরা প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাননি।বছরের পর বছর ধরে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন যারা তাদের অধিকার ও ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়াই প্রথমও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দায়িত্ব অনেক বড় এবং দল ও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তা আমি রক্ষা করবই। পাহাড়ের মানুষ চেয়েছেন পরিবর্তন। পরিবর্তন হয়েছে।
প্রশ্ন – এতদিন বিরোধী ছিলেন, এবার সরকারে। দায়িত্ব কতটা বাড়ল? কিভাবে সামলাবেন?
উত্তর – মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে দায়িত্ব সামলাতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আগামী দিনেও হবে না।
প্রশ্ন – বাজেটে আলিপুরদুয়ারের জন্য মেডিক্যাল কলেজ করার কথা রয়েছে। কতটা খুশি আপনি?
উত্তর- স্থানীয় বাসিন্দারা খুব খুশি। আমিও খুব খুশি। কালচিনির কাছাকাছি বিমানবন্দরের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই ঘোষণা করেছিলেন এই বিমানবন্দরের কথা। তৃণমূল সরকার কোনভাবেই তা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। এমনকি বিমানবন্দরের জন্য জমিও দেয়নি তৃণমূল সরকার। কালচিনিতে বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়ে গেছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিনের পর দিন উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কেবল প্রতিশ্রুতিই থেকে গেছে। এই বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রশ্ন – এমএসএমই থেকে কিভাবে মানুষ উপকৃত হবেন?
উত্তর- কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প থেকে শুধু উত্তরবঙ্গের মানুষ নয়, গোটা বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র শিল্পের মালিক যারা তারা এমএসএমই দ্বারা উপকৃত হবেন। নিজেদের শিল্পকে, ব্যবসাকে তারা অন্য রাজ্যেও এবং বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারবেন স্বল্প পুঁজিতে। বাকি সাহায্য কেন্দ্রীয় সরকার করবে। নিশ্চিতভাবে যোগ্যরা সরকারি চাকরি পাবেন। কিন্তু সবাইতো চাকরি করেন না, বেশকিছু মানুষ ছোট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। তাদের জন্য এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। খুব অল্প পরিমাণ তারা খরচ করে প্রচুর মানুষের কাছে তাদের শিল্প, তাদের ব্যবসাকে পৌঁছে দিতে পারবেন।
প্রশ্ন- উত্তরবঙ্গে প্রচুর চা বাগান রয়েছে। প্রচুর ক্ষুদ্র বড় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। পারিশ্রমিক না পাওয়া থেকে শুরু করে, চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়া। এ সমস্ত সমস্যার সমাধানে কিছু ভেবেছেন?
উত্তর- শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড গড়ে তোলা হবে দ্রুত। যে সমস্ত চা বাগানের মালিকরা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে। আমি নিজে চা বাগানে থাকি। আমি এই বিষয়টি নিজে পর্যালোচনা করছি।
প্রশ্ন – ভুটানের জলে কৃষি কাজের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা বারবার একই কথা বলছেন। বর্ষাকালে কৃষি কাজের চরম ক্ষতি হয়। এক্ষেত্রে আপনার ভাবনা কি?
উত্তর – কৃষক ও ফসলের সুরক্ষা দেওয়া প্রধান কর্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে আমি এই সমস্যার কথা জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত এই বিষয় নিয়ে বৈঠক ডাকা হবে। ইতিমধ্যে উত্তরকন্যাতে শুভেন্দু অধিকারী এই নিয়ে বৈঠক করেছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় কারোর হাতে নেই, কিন্তু যতটা কম ক্ষতি হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের।