ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের অভিযোগে উত্তর থেকে দক্ষিণ দুই বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভের পারদ ক্রমশ চড়ছে। জলপাইগুড়ি, মালদহ, কোচবিহার, বর্ধমান, হুগলির মতো বিভিন্ন জেলায় চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অবরোধের কারণে রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়ে একের পর এক গাড়ি।
কোচবিহারের মাথাভাঙার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় পথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোচবিহার-মাথাভাঙা রাজ্য সড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির হুসুলডাঙা এলাকাতেও বৃহস্পতিবার ২৭ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার সকাল একই ছবি দেখা গিয়েছে মালদহেও। সকাল থেকেই পুরাতন মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। চার ঘণ্টারও বেশি সময় অবরোধ চলার পর মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। মালদহের ইংরেজবাজারে যদুপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন উত্তেজিত জনতা।
সেই অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকর্মীদের উপরে চড়াও হয়। যদুপুরের ঘটনায় পুলিশের এক গাড়ি চালকের মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বেওয়া-১ এবং নয়নসুখ এলাকাতেও বিক্ষোভ দেখান নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। পূর্ব বর্ধমানেও ছিল একই ছবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে মৌন মিছিল করেন নাম বাদ পড়া ভোটাররা।
প্রতিটি জেলাতেই বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসআইআর-এর পরে তাঁদের মধ্যে অনেকেরই নাম প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে নাম পাকাপাকিভাবে ‘ডিলিটেড’ বা মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও তাঁরা নাগরিকত্বের সব প্রমাণই দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে কমিশন সেই নথিপত্র গ্রাহ্য না করে একতরফাভাবে নাম বাদ দিয়েছে। ভোটার তালিকায় ফের নাম না উঠলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।