টাকা মেলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার, ক্ষোভে নদিয়ায় ডিম-থেরাপি, ফাঁসিদেওয়ায় লাঠিচার্জ

অন্নপূ্র্ণার টাকা কই? বিক্ষোভে মহিলারা (SNS)

আশায় বুক বেঁধেছিলেন বাংলার লক্ষ লক্ষ মহিলা। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও মেলেনি প্রতিশ্রুত টাকা। আর তারই জেরে এবার রাজ্যজুড়ে নতুন সরকারি প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Bhandar) টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে।

কোথাও মহিলারা পঞ্চায়েত অফিসে ডিম ছুঁড়ে বিক্ষোভ দেখালেন, কোথাও আবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠল নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নদিয়া, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া এবং হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় দফায় দফায় গণবিক্ষোভ (Mass Protest) ছড়িয়ে পড়ে।

ফাঁসিদেওয়ায় ধুন্ধুমার, লাঠিচার্জের জেরে আহত মহিলারা


দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া (Phansidewa) বিডিও অফিসের সামনে মঙ্গলবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। শত শত মহিলা উপভোক্তা অফিসের মূল গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি একসময় হাতের বাইরে চলে গেলে সেখানে মোতায়েন থাকা সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (BSF) এবং পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লাঠিচার্জের তীব্রতায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী মহিলা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং আহত হন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুরুতর জখম হন দুই স্থানীয় সাংবাদিকও (Journalists)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নকশালবাড়ির এসডিপিও (SDPO) সৌমজিৎ রায় বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

একই রকম ক্ষোভের আগুন দেখা যায় শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া বিডিও অফিসেও, যেখানে কয়েক হাজার মহিলা সুবিধার দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন।

নদিয়া ও হাওড়ায় ডিম-বৃষ্টি, তালা ঝুলল পঞ্চায়েতে

অন্য দিকে, নদিয়ার চাকদহ এবং হাওড়ার ডোমজুড় ও শ্যামপুরে বিক্ষোভের ভাষা ছিল আরও আক্রমণাত্মক। হাওড়ার ডোমজুড়ে প্রায় ৫০০ মহিলা ঝাড়ু এবং ডিম হাতে নিয়ে কালোড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করেন। ক্ষুব্ধ মহিলারা পঞ্চায়েত অফিসের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে কর্মীদের দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত কেবল নিজেদের পছন্দের লোকেদের নাম তালিকায় তুলছে। বিক্ষোভকারীরা অফিসের ভেতরে ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ক্রমাগত ডিম ছুঁড়তে থাকেন। শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকেও ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা বিডিও অফিসে জোরপূর্বক ঢুকে নথিপত্র ছড়িয়ে দেন এবং ভাঙচুর (Ransacked) চালান। প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত টাকা দেওয়ার লিখিত আশ্বাস মেলার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জটিল  ফর্ম ও ভেরিফিকেশনের গেরো

কিন্তু কেন হঠাৎ এই রাজ্যব্যাপী অসন্তোষ? রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে আপগ্রেড করে যখন মাসিক ৩,০০০ টাকার এই নতুন নগদ হস্তান্তর প্রকল্প (Cash Transfer Scheme) চালু করার কথা বলা হয়, তখন থেকেই জট পাকতে শুরু করে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা এবং পুরুলিয়া পুরসভা এলাকার উপভোক্তারাও একই অভিযোগ তুলে আধিকারিকদের ঘেরাও করে স্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন।