ভোটের আগে সিপিআইএম-আইএসএফ জোটে অগ্রগতি

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোট রাজনীতিতে তৎপরতা বাড়ছে। এই আবহে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল সিপিআইএমের। মঙ্গলবার সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা বিমান বসু ও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। বৈঠকে জোটের রূপরেখা নিয়ে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হলেও, আসন বণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সূত্রের খবর, আইএসএফ ৪৫টির কম আসনে লড়তে রাজি নয়। অন্যদিকে সিপিআইএম চাইছে প্রায় ৩০টি আসন ছাড়তে। এই মতভেদ মেটাতে বুধবার ফের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সিপিআইএমের কাছে আইএসএফ-ই এখন প্রধান ভরসা। অতীতে জোট রাজনীতিতে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে কিছু আসনে শরিক দলগুলির আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আসন বণ্টনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী।

তিনি জানান, কয়েকটি আসনে এখনও সিপিআইএম-আইএসএফ ঐকমত্য হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে শরিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও আলাপ হয়েছে। অতীতে দেগঙ্গার মতো আসনে জোটের সমন্বয় ঘাটতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবার তা যাতে না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।


এদিকে বাম শরিকদের আসন দাবি নিয়েও চাপ রয়েছে। বিশেষ করে ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবিদাওয়া জোটের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। ফলে শেষপর্যন্ত সিপিআইএম-আইএসএফ জোট কোন সমীকরণে দাঁড়ায়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। বুধবারের বৈঠকেই হয়তো স্পষ্ট হবে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ছবি।