রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়ােজন হতে পারে : রাজ্যপাল

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Photo: IANS/PIB)

বাংলায় নির্বাচন পরবর্তী বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সােমবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিশদে জানিয়েছেন রাজ্যের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। তাঁর কাছ থেকে বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির পরিস্থিতি সম্পর্কেও জেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিপাঠীর বৈঠক পূর্ব নির্ধারিত হলেও সন্দেশখালির ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক অবশ্য অন্য মাত্রা পায়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে ত্রিপাঠী সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলার বলুন, আমি যা বলার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি।

এদিন সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডােভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, কেন্দ্রীয় গােয়েন্দা সংস্থার প্রধান সহ মন্ত্রকের অনেক পদস্থ কর্তাই। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সেই বৈঠকে আলােচনার সময়ও ওঠে সন্দেশখালির প্রসঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গও বলে সূত্রের খবর। বাংলার সাম্প্রতিক হিংসার পরিস্থিতির উপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সতর্ক নজর রেখেছে বলে সেই সূত্র জানিয়েছে।


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হানাহানি নিয়ে সােমবার বিস্তারিত রিপাের্ট দেন। কিন্তু রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে কোনও আলােচনা হয়নি বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তিনি রাজ্যের সকল রাজনৈতিক দলকে হানাহানি বন্ধ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার অনুরােধ করেছেন। কিন্তু বিজেপি ও তৃণমুলের মধ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও হানাহানি যে হারে বেড়েই চলেছে তাতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অবিলম্বে রাজনৈতিক হানাহানি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে সে বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারণ শনিবারের ঘটনায় বিজেপির পক্ষে চার জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমলের তরফে তাদের ছয়জন নিখোজ বলে অভিযােগ করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হানাহানিতে এপর্যন্ত বারােজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

সােমবার নির্বাচনের পর রাজ্যপাল এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কী রিপাের্ট দিয়েছেন তা বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন। তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের কোনও সম্ভাবনা নিয়ে কোনও আলােচনা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল রাজ্যে রাজনৈতিক হানাহানি নিয়ে মন্তব্য করায় শাসকদলের সমালােচনার মুখে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী বিশেষত উত্তর চব্বিশ পরগনায় একই দিনে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার যে এই অবাঞ্ছিত হানাহানি এড়াতে পারত সে বিষয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।

হানাহানি রুখতে রাজ্য সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা যে ব্যর্থ হয়েছে সে কথাও জানানাে হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যসরকার রাজনৈতিক হানাহানির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে সাফাই দিয়েছে এবং অবস্থা যে নিয়ন্ত্রণে সেকথাও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় কুমার দে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, হিংসার ও হানাহানির ঘটনার মােকাবিলায় সঠিক ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কোনও বিলম্ব না করেই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, বাংলায় নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় এক ডজন মানুষের প্রাণ গিয়েছে। যদি এই ধরনের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার প্রয়ােজন পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বলেন, এটা হতেই পারে। এই ধরনের দাবি উঠলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবেচনা করতেই পারেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের সংঘাত এই মুহূর্তে চরমে উঠেছে। বিজেপি বলছে, টিএমসি’র গুণ্ডারা হিংসা ছড়াচ্ছে, অপরদিকে তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেনি। রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে আপনার বক্তব্য কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ত্রিপাঠী বলেন, এগুলি রাজনৈতিক বক্তব্য। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অনুরােধ করব রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বজায় রাখতে শান্তির পরিবেশ রক্ষা করুন।