ডোরিনা ক্রসিংয়ে মমতার ধরনার প্রস্তুতি তুঙ্গে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এলাকায়। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতেও সরগরম হয়ে উঠেছে ধর্মতলা চত্বর।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল বার্তা স্পষ্ট—সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সেই সব মানুষও, যাঁদের পরিবারে এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে এক বা একাধিক সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের বক্তব্য এবং অভিজ্ঞতাও সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দিন থেকেই তিনি পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীদের নিয়ে তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছেও গিয়েছিলেন এবং অভিযোগ জানান। তবে অভিযোগ, তাতেও সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয়নি। রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলনের পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতেও নানা সংকটের মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ধর্মতলার এই ডোরিনা ক্রসিং রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় দুই দশক আগে এখানকার আন্দোলন মঞ্চ থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। সেই একই স্থানে আবারও প্রতিবাদের মঞ্চ গড়ে তুলতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।