জোর কদমে ভেষজ আবিরের প্রস্তুতি

দোল উৎসব ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। কথিত আছে, বৃন্দাবনে এই দিনেই রাধা-কৃষ্ণ রঙের আবিরে প্রেমলীলা উদযাপন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য মেনেই আজও দোলের সকালে ঠাকুরের পায়ে রং ছুঁইয়ে শুরু হয় উৎসব। তবে একসময় কেমিক্যাল মেশানো রঙের কারণে অনেকেই দোল খেলতে অনীহা প্রকাশ করতেন। ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা ছিলই। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বাজারে বেড়েছে ভেষজ আবিরের চাহিদা। আর সেই চাহিদা মেটাতে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের কারখানাগুলিতে চলছে জোর প্রস্তুতি।

তমলুকের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরচড়া শংকর আড়া এলাকায় প্রায় তিন দশক ধরে ভেষজ আবির তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে পরিবেশবান্ধব ও ত্বক-নিরাপদ রঙের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় উৎপাদনও বেড়েছে। কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যারারুটের সঙ্গে প্রাকৃতিক রং মিশিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ফুটিয়ে তা শুকনো করা হয়। পরে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে চালুনিতে ছেঁকে প্যাকেটজাত করা হয় আবির। কোনও ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না।

একটি কারখানার ম্যানেজার চন্দন কুমার জানিয়েছেন, তাঁদের কারখানায় দশ রঙের ভেষজ আবির তৈরি হয়। চার জন কর্মী মিলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত কুইন্টাল আবির উৎপাদন করছেন। দোলের তিন মাস আগে থেকেই কাজ শুরু হয় এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয় এই রং। জেলা আয়ুষ দপ্তরের আধিকারিক প্রকাশ হাজরার মতে, কেমিক্যালযুক্ত আবিরের তুলনায় ভেষজ আবির অনেকটাই নিরাপদ। তবে উৎসবের আনন্দে চোখে যেন রং না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।