সাব ইনস্পেক্টর রনির রিভলভার কেড়েছিল প্রভাস, আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান অর্ঘ্য, কারা এই দুই পুলিশ অফিসার জেনে নিন

Photo: Representational Image

একেবারে টানটান উত্তেজনা।  যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের থেকেও রোমাঞ্চকর। বারুইপুরের মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃ্ত্যু আর তা ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। এই ঘটনা যে কোনও অপরাধীকে ভয় পেতে বাধ্য করবে। কারণ মৃত্যু ভয়, বড় ভয়।

বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনে গ্রেপ্তার হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। তিনিই ছিলেন এই ঘটনার প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত। আর গ্রেপ্তার হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে কাটতেই এনকাউন্টারে খালাস করা হল সেই অভিযুক্তকে। একেবারে যোগীরাজ্যের ধাঁচে পুলিশের এনকাউন্টারে খতম করে দেওয়া হল তাঁকে।

গ্রেপ্তারের পর থেকেই ধৃতদের যথা প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দারকে এক এক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে থাকে পুলিশ। তথ্যে জন্য অনুসন্ধান চলতে থাকে। রাতে পৌনে একটার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় প্রভাস মণ্ডলকে। সূর্যপুরে যান বারুইপুর পুলিশের সিটের সদস্যরা।


নিয়ম মেনে ধৃতদের জেরায় দেওয়া বয়ানের সঙ্গে পুনর্নির্মাণের তথ্য মেলাতে হয়। মেলানোর সময়ই ঘটলো হাড়হিম করা ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় আচমকা সিটের সদস্য় রনি সরকারের কোমরে থাকা পিস্তল কেড়ে নেয় প্রভাস। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করেন বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে থাকা অর্ঘ্য মণ্ডল। আর তাতেই খতম প্রভাস মণ্ডল।

গুলির শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে খান খান হয়ে যায়। আর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রভাস। রক্তে ভেসে যায় চারদিক। শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গের ক্রাইম ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। আর এই নতুন অধ্যায় রচনার দুই কারিগর হলেন অর্ঘ্য মণ্ডল এবং রনি সরকার।

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে

রাত পৌনে ১টা

সূর্যপুরে পুনর্নির্মাণ করতে পুলিশ, সঙ্গে প্রভাস মণ্ডল

 

রাত ১টা

এলাকা ঘুরিয়ে দেখায় অভিযুক্ত

 

রাত ১টা ১০ মিনিট

এলাকা দেখানো এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার সময় রনি সরকারের রিভলবার নেয় প্রভাস। ছুটতে থাকে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় গুলি। অল্পের জন্য রক্ষা পান পুলিশকর্মীরা। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।

মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস।

 

রাত ১ট ১৫ মিনিট

নড়াচড়া বন্ধ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা।

 

এরপর এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়।

 

২০১৪ সালের ব্যাচের কৃতি অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। আগে ছিলেন সোনারপুর, কুলতলি ও জয়নগর থানার দায়িত্বে। বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জও ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, রনি সরকার ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। কনস্টেবল হিসেবে কাজ শুরু করে আজ তিনি নির্ভুল লক্ষ্যে পারদর্শী। নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বকুলতলা-সহ বেশ কয়েকটি থানায় কাজও করেছেন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম ধর্ষণ মামলায় এনকাউন্টার করল রাজ্য পুলিশ।