পুরুলিয়ামাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার, নেতাদের নাম উল্লেখ করে গণআদালতে বিচারের হুঁশিয়ারি

পুরুলিয়া জেলার জঙ্গলমহলের বান্দোয়ান ব্লকের কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ফের মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে যশপুর অঞ্চলের তৃণমূল কার্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা একাধিক পোস্টার নজরে আসে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘গণআদালতে বিচার’-এর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত, এগুলি আসল মাওবাদী পোস্টার নয়। তদন্তকারীদের মতে, সিপিআই (মাওবাদী)-এর প্রচারপত্রে সাধারণত সংগঠনের নাম, সুসংহত বক্তব্য ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। এই পোস্টারগুলিতে সেই বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল না। ভাষা ও উপস্থাপনাতেও অসংগতি রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পোস্টারে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং ঝাড়খণ্ড পার্টি (আদিত্য)-র একাধিক নেতার নাম করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির নাম নেই, কারণ সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে তাদের কোনও সদস্য নেই বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই এই কাজ করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে পোস্টারগুলি সরিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ভোটের আগে জঙ্গলমহলে এ ধরনের মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয় বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
 পোস্টারে প্রথমেই ভবতোষ দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কুমড়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি। পোস্টারে অভিযোগ করা হয়েছে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।এছাড়া এলাকার সিপিএম নেতা সুধাংশু মহাপাত্র, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার অনিল হাঁসদা এবং কংগ্রেস নেতা জগবন্ধু সিং মানকিকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, শাসক-বিরোধী মহাজোট পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে তাঁরা টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই পোস্টারে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জয় দাস পাত্রের নামও রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি টাকা নিয়েছেন। স্থানীয় সিপিএম নেতা দীনবন্ধু সিংয়ের নামও পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া সিপিএমের স্থানীয় নেতা ও ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শম্ভু মানকিকে ‘মিরজাফর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পার্টি (আদিত্য)-র নেতা কালিপদ মান্ডির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘মিষ্টিভাষী চোর’ বলেও আক্রমণ করা হয়েছে। অন্য একটি পোস্টারে এই সব নেতাদের নাম একসঙ্গে লিখে তাঁদের ‘কুমড়া অঞ্চলের চোর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সেখানে হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘এবার মাওবাদীদের খেলা হবে।’