বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকাও তদন্তের আওতায়, রেয়াত নয়: ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত

File Photo

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হবে বলে স্পষ্ট জানালেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা দেরিতে সাড়া দেওয়া ও উদাসীনতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে তদন্তকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডিজি। পরে রেললাইনের ধারের সেই পুকুরও পরিদর্শন করেন, যেখান থেকে রবিবার কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তের অগ্রগতি, সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখেন তিনি। বর্তমানে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন যথা–আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার। মঙ্গলবার প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে আদালতে তোলা হয়েছে।তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু বলতে না চাইলেও ডিজি জানান, ‘তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত যেভাবে এগোবে, সেভাবেই তথ্য জানানো হবে।’

শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের নাবালিকা। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ ডায়েরি করার পরও পুলিশ সক্রিয়ভাবে খোঁজ চালায়নি। রবিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মাঝে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


রবিবার থেকে দফায় দফায় অশান্তির পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সোমবার নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তিনি বারুইপুরে গিয়ে এসপি অফিসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তও। তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।