বাঁকুড়ার পুলিশ অফিসারের রহস্যমৃত্যু, একবছর আগে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, নেপথ্য কারণ কী?

Police Officer Jayanta Paul Photo-SNS

বাঁকুড়ায় রাজ্য পুলিশের এক অফিসারের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দেখা দিয়েছে। গতকাল রাতে বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছ থেকে ওই ইন্সপেক্টরের দেহ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। শনিবার এই ঘটনা সামনে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একবছর আগে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এই অফিসার। তখনও নানা কথা উঠে এসেছিল। এবার সেই পুলিশ অফিসারের রহস্যমৃত্যু হল। এটা কি দুর্ঘটনা নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে? সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রেনে কাটা পড়েই মৃত্যু হয়েছে ডিআইবি ইন্সপেক্টর জয়ন্ত পালের। কিন্তু নিছক রেল দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, অথবা নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের ইনস্পেক্টর (ডিআইবি) পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্ত পাল। শুক্রবার রাতে আরণ্যক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করেছে। বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সত্যিই রেললাইন পারাপারের সময় মৃত্যু নাকি জয়ন্তের মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে সেটা নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনার পর একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ অফিসার জয়ন্ত পালের বাড়ি আসানসোল উত্তর থানা এলাকায়। তাঁর বয়স ৪১। জয়ন্ত পালের পরিবারকে এই ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কিনা, কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল কিনা, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ অফিসারের সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এমনকী পরিবারের সদস্যদেরও বয়ান সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষপাড়ার পেট্রল পাম্পে গুলিবিদ্ধ হন জয়ন্ত পাল। তখন তিনি হুগলির চণ্ডীতলার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। ওই ঘটনার সময় এক রহস্যময়ীর কথা সামনে এসেছিল। ওই রহস্যময়ী হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে জয়ন্ত পালের আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা হয়। জয়ন্ত গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর যুবতীর মা দাবি করেন, তিনি জয়ন্তকে চিনতেনই না। তারপর জয়ন্তকে সাসপেন্ড করে রাজ্য পুলিশ। তখন রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) ছিলেন জাভেদ শামিম। সাসপেনশন ওঠার পর খানাকুল, চণ্ডীতলা, সিঙ্গুর থানায় দায়িত্ব সামলেছেন জয়ন্ত পাল। এখন বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের ইনস্পেক্টর (ডিআইবি) পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। তাই অতীত ইতিহাসের সঙ্গে যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।