মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের গোপন বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এ নিয়ে আগেই অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল। এবার এই ইস্যুতেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে শাসকদল। রবিবারই মগরাহাট পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভার প্রচারসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষককে আদালতের মুখোমুখি করা হবে। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে আইনি পদক্ষেপ নিল শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগ, আইপিএস আধিকারিক পরমার স্মিথ পরষোত্তমদাস, যিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল তিনি সরকারি নিয়ম ভেঙে সেখানে ছিলেন এবং ওই দিনই বৈঠকটি হয়। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পান্নালাল হালদার অভিযোগ করেন। সেই বৈঠকের ভিডিও ও তাঁদের হাতে এসে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তৃণমূল প্রার্থী। কমিশনকে এই মর্মে অভিযোগ জানান তিনি। তৃণমূল প্রার্থীর আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় তৃণমূল কর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা রুজু করছে। অথচ তাঁদের করা অভিযোগের কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না কমিশন। কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে।
রবিবার ফলতায় নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক এই প্রসঙ্গ তুলে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি দাবি করেন, গোপনে বৈঠক করলেও তা তাঁদের নজর এড়ায়নি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলায় তৃণমূল জানিয়েছে, একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থাকা। অথচ সংশ্লিষ্ট আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক নীতির পরিপন্থী।এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভার দায়িত্বে আছেন পরষোত্তমদাস। সরকারি ভাবে আলিপুরের আইপিএস মেসে তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিয়ম ভেঙে ২০ এপ্রিল তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে ছিলেন, যেখানে বৈঠকটি হয়েছে। মামলাকারীর কাছে বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ আছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।
এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। দাবি করেছিলেন, পুলিশ পর্যবেক্ষকের নির্দেশে ৫০০-র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দল তা সহ্য করবে না এবং আইনের পথে জবাব দেবে বলেও কমিশনে জানিয়ে এসেছিলেন রাজীব। বলেছিলেন, যে সমস্ত পর্যবেক্ষক বেআইনি গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের আদালতের দরবারে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই মতো এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে তৃণমূল।