পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে মাওবাদীদের সম্ভাব্য গতিবিধির আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সিপিআই(মাওবাদী)-র শহিদ সপ্তাহ শুরুর আগে বান্দোয়ানের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে টহলের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সঙ্গে খাটিয়া বৈঠক করে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়। সেই সঙ্গে থানার ও জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ নম্বরও তুলে দেওয়া হয় বাসিন্দাদের হাতে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সারাণ্ডা এলাকা থেকে সরে এসে মাওবাদীদের একটি দল পুরুলিয়া সীমান্তবর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ, তিমির বা মনোজ দা-সহ ১০-১২ জন সশস্ত্র গেরিলা থাকতে পারে বলে অনুমান। তাঁরা স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রশাসনের।
শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্যাগড় অজিঙ্ক্যা অনন্তের নেতৃত্বে মানবাজার মহকুমা পুলিশ, বান্দোয়ান থানার পুলিশ, সিআরপিএফ, কাউন্টার ইনসারজেন্সি ফোর্স ও অ্যাসল্ট গ্রুপের জওয়ানরা সীমান্তবর্তী রাজগ্রাম, চৌড়া, কুলডাঙা, সাতারা, বুরুডি, চিরাগাজর ও আমঝর্না-সহ একাধিক গ্রামে এরিয়া ডমিনেশন অভিযান চালান।
প্রতি বছর ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সিপিআই শহিদ সপ্তাহ পালন করে। এই সময়ে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। তাই অতীতের মতো যাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং বাংলার মাটিতে তারা নতুন করে সংগঠন গড়ে তুলতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত জুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।