তৃণমূল নেতার বাংলাদেশে পালানোর ছক ভেস্তে দিল পুলিশ

ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল-সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার গোপালনগর-কল্যাণপুর এলাকা থেকে ভোররাতে তাঁদের পাকড়াও করে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুনের পর অভিযুক্তরা বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিউটাউন এলাকা। নিহত বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা এলাকার বালিগড়ির বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কমল মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর জমি সংক্রান্ত পুরনো বিবাদ ছিল। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছয়।

অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে কমল মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা মধুর উপর হামলা চালায়। বেধড়ক মারধরে গুরুতর জখম হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। ঘটনার পরেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে বনগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে।


জানা গিয়েছে, কমল মণ্ডল রাজারহাট পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য। তাঁর স্ত্রী চামেলি মণ্ডল বর্তমানে ওই পঞ্চায়েতের সদস্য পদে রয়েছেন। খুনের ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কমল মণ্ডলের বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে।

এলাকার সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং সীমান্ত পেরনোর পরিকল্পনা— সব দিক খতিয়ে দেখছে।