খদ্দের সেজে বিরল প্রজাতির ‘স্লো লরিস’ পাচার আটকাল পুলিশ, গ্রেপ্তার ২

Image: নিজস্ব ছবি

খদ্দের সেজে এক বিরল প্রজাতির ‘স্লো লরিস’ বন্যপ্রাণী পাচার চক্রকে ধরল কল্যাণী থানার পুলিশ। পুলিশের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তৎপরতায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই পাচারকারী। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই পাচারকারীর নাম সুজয় দাস এবং ইন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায়। সুজয়ের বাড়ি কলকাতার নাগেরবাজার এলাকায় এবং ইন্দ্রজিতের বাড়ি কাশিপুরে। এদের মধ্যে সুজয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বিরল প্রজাতির বানর চুরির অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্রে পাচারের খবর পেয়ে কল্যাণী থানার পুলিশ একটি বিশেষ ছক কষে। পুলিশের এক আধিকারিক খদ্দের সেজে প্রধান অভিযুক্ত সুজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে সুজয় ও ইন্দ্রজিৎ একটি বাইকে করে ওই বিরল বন্যপ্রাণীটিকে নিয়ে কলকাতা থেকে কল্যাণীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারা কল্যাণী এইমসের কাছে পৌঁছতেই ওত পেতে থাকা কল্যাণী থানার পুলিশ তাদের ঘিরে ধরে এবং ‘স্লো লরিস’ সহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন: রাতের অন্ধকারে বিপত্তি, বনদপ্তরের দক্ষতায় প্রাণে বাঁচল শিয়াল
মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিং যাদব জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির। উল্লেখ্য, ‘স্লো লরিস’ পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকটি বিষধর স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে অন্যতম। মূলত বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ-চিনের বনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির।

রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিস মৌর্য জানান, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীটির বয়স প্রায় পাঁচ বছর এবং ওজন প্রায় দুই কেজি। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রাণীটিকে বাইরে কোথাও পাচারের উদ্দেশ্যেই কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছিল।উদ্ধার হওয়া বিরল বন্যপ্রাণীটিকে ইতিমধ্যেই কল্যাণী বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই আন্তঃরাজ্য বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা এবং এই চক্রের মূল মাথা কে, তা জানতে ধৃতদের জেরা করে তদন্ত শুরু করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ।


 

দেখুন: মাঝআকাশে বিপর্যয় রুখে নজির, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্মান পেলেন ভারতীয় পাইলট