আদালতে আরডিএক্স রাখার হুমকি-মেল, পুলিশের তৎপর তল্লাশি

রাজ্যের একাধিক আদালতে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি-সংবলিত ই-মেল পৌঁছনোকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় মঙ্গলবার সকালে। কলকাতা থেকে পশ্চিম বর্ধমান, হুগলির চুঁচুড়া— বিভিন্ন জেলা আদালতে একই ধরনের উড়ো মেল আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ মুখ্য বিচারকের দপ্তরে একটি মেল আসে। তাতে দাবি করা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে বোমা রাখা হয়েছে এবং দুপুর ১টার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। সেই সময় একটি জামিনের আবেদনের শুনানি চলছিল। আইনজীবী শেখর কুন্ডুর দাবি, মুখ্য বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ এজলাসে বসেই মেলের কথা জানান। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পুলিশকুকুর ও বম্ব স্কোয়াড নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা।

অল্প সময়ের মধ্যেই কলকাতার নগর ও দায়রা আদালত এবং ব্যাঙ্কশাল কোর্টেও একই ধরনের হুমকি-মেল পৌঁছয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আদালত চত্বর থেকে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। দুর্গাপুর আদালতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে কোথাও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও জেলা জজের কাছে একটি মেল যায়, যাতে আরডিএক্স বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারকে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ আদালতে পৌঁছে মেটাল ডিটেক্টর ও অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে তল্লাশি চালায়। সেখানেও কোনও বিস্ফোরক মেলেনি।


চন্দননগর পুলিশ কমিশনার কোটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, আদালত চত্বর এবং সমস্ত প্রবেশপথ খতিয়ে দেখা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখা হয়নি। সর্বত্র বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে বহু বিচারক ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। এই হুমকি-মেলের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ ধরনের মেল পাঠানো হয়েছে। কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা জানতে সাইবার তদন্ত শুরু হয়েছে।