পাহাড়ের দেশে কবিতার মেলা

পাহাড়ের ঐতিহ্য, মেঘেদের আনাগোনা, ঘন পাইন বন, চা বাগানের সবুজ গালিচা আর হেরিটেজ টয়ট্রেনের বাঁশির সুরে এবার মিশে যাবে কবিতা ও গল্পের ছন্দে। ১৫ মে থেকে শুরু হতে চলেছে তিন দিনব্যাপী ‘দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে লিটারেচার ফেস্টিভাল ২০২৬’। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এবং সৃজনশীল সংস্থা ‘পোয়েটস অফ কমিউনিটি’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব চলবে ১৭ মে পর্যন্ত।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘পোয়েটস অফ কমিউনিটি’ ভারতের আটটিরও বেশি শহরে কবিতা, গল্প এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজ করে আসছে। এবারের এই উৎসব কেবল একটি সাহিত্য সম্মেলন নয়, বরং ‘পাহাড়ের রানি’ দার্জিলিংয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং হিমালয়ের সমৃদ্ধ গল্প বলার ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই বিষয়ে ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, ‘এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হল হিমালয়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে উদযাপন করা। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সৃজনশীলতাকে যুক্ত করে আগামী প্রজন্মের কাছে এই অঞ্চলের আত্মিক শক্তিকে আরও মজবুতভাবে তুলে ধরাই ‘ডিএইচআর লিটারেচার ফেস্টিভাল’-এর প্রধান উদ্দেশ্য।‘

উৎসবের প্রথম দিনের আসর বসবে কার্শিয়াঙের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুলে। উদ্বোধনী অধিবেশনে একটি বিশেষ কর্মশালা পরিচালিত হবে, যার বিষয়— ‘কবিতা কেন বিরক্তিকর?’ আইআইটি রুরকির প্রাক্তনী, লেখিকা ও নাট্যশিল্পী মেঘা মিত্তল এই কর্মশালাটি পরিচালনা করবেন। প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে কবিতা যে বর্তমান সময়ে আত্মপ্রকাশের একটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সহজ মাধ্যম হতে পারে, তা ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরবেন তিনি।


দ্বিতীয় দিনের আকর্ষণ দ্বিগুণ। একদিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডিএইচআর-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হবে ‘রেল অ্যান্ড রিদম’। কুয়াশাচ্ছন্ন হিমালয়ের বুক চিরে টয় ট্রেনের ওপেন-ডেক কোচে এই অনুষ্ঠান হবে। স্টিম ইঞ্জিনের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে চলবে স্থানীয় লোকসংগীত ও আধুনিক শিল্পীদের লাইভ অ্যাকোস্টিক পারফরম্যান্স।

এরপর সন্ধ্যায় কার্শিয়াঙের ‘ক্যাফে ডি সেন্ট্রাল’-এ বসবে ‘ভয়েসেস অফ দ্য হিলস’-এর আসর। পাহাড়ের লোকগাথা, চা বাগানের জীবন এবং হিমালয় অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিচিতি নিয়ে গল্পকার ও কবিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা ভাগ করে নেবেন।

উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ১৭ মে অনুষ্ঠানটি স্থানান্তরিত হবে দার্জিলিঙের ‘ক্যাফে হাউস’-এ। সমাপ্তি পর্বে নেপালি, ইংরেজি এবং হিন্দি— এই তিন ভাষায় একটি বহুভাষিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পী, লেখক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা হিমালয় অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা ও পাঠ করবেন।