পাঁচ রাজ্যে ‘জয়ের হ্যাটট্রিক নিশ্চিত’, বাংলার দ্বিতীয় দফায় আত্মবিশ্বাসী মোদী

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, সেই সময় ফের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে। উত্তরপ্রদেশের হরদই থেকে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনে বিজেপি ‘জয়ের হ্যাটট্রিক’ করতে চলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের উৎসব আজ বাংলায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। প্রথম দফার মতোই মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। গত ছয়-সাত দশকে এমন দৃশ্য কল্পনা করা যেত না।’ তাঁর মতে, ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়াতেই এই বিপুল ভোটদানের ছবি সামনে আসছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ এখন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন। এটি আমাদের সংবিধান ও শক্তিশালী গণতন্ত্রের প্রতীক।’ তিনি রাজ্যের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উৎসাহ নিয়ে ভোটদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।


শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশজুড়ে বিজেপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিহার বিধানসভা নির্বাচন এবং গুজরাতের সাম্প্রতিক পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিহারে এনডিএ বিপুল জয় পেয়েছে। গুজরাতেও ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আসন আমরা জিতেছি।’ এই ধারাবাহিকতার ভিত্তিতেই তাঁর বিশ্বাস, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক জয় লাভ করবে।

ভাষণে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ৪ মে-র ফলাফল শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, দেশের উন্নয়নের গতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি উন্নয়নের বার্তাকেই সামনে রাখেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের দিন প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য মূলত বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করা এবং বিরোধীদের চাপে রাখার কৌশল। তবে তাঁর ‘হ্যাটট্রিক জয়ের’ দাবি বাস্তবে কতটা সফল হয়, তা স্পষ্ট হবে ফল ঘোষণার দিন।