পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দলের অন্যতম প্রবীণ কর্মী মাখনলাল সরকারের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে শাল পরিয়ে সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর আশীর্বাদও নেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে মাখনলাল সরকারকে ‘অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব’ বলে উল্লেখ করেন মোদী।
৯৮ বছর বয়সেও মাখনলাল সরকার বিজেপির প্রবীণতম সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা জড়িয়ে রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন তিনি।
শনিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার দিনে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করা স্বাভাবিক। দেশ এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁর স্বপ্ন পূরণে কোনও খামতি রাখা হবে না।’
একই বার্তায় মোদী আরও উল্লেখ করেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারজির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি একজন জাতীয়তাবাদী নিবেদিতপ্রাণ। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। সারা জীবন তিনি দলকে শক্তিশালী করার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির বর্তমান উত্থানের পিছনে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন গড়ে তুলেছেন, মাখনলাল সরকার তাঁদের অন্যতম মুখ। ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনিও গ্রেপ্তার হন।
পরে ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পান মাখনলাল সরকার। মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সাল থেকে টানা সাত বছর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলান, যা সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে মনে করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও বলেন, ‘আমাদের দলে এমন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁরা মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করেছেন এবং দলকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁদের পেয়ে আমরা গর্বিত।’
উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন এবং মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর তৃণমূল সমর্থকদের একটি বড় অংশ বিজেপিতে ভিড়তে শুরু করে। এই সময়ে নব্য বিজেপির দাপটে আদি বিজেপির নেতা কর্মীরা দলে কোনঠাসা হতে থাকেন। সেই সময়ে অভিযোগ উঠতে থাকে, বিজেপির আদিদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। এবার বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের শপথের দিনে মোদী একজন বর্ষীয়ান প্রবীণ বিজেপি কর্মীকে সম্মান জানিয়ে কার্যত দলের নেতা-কর্মীদের নতুন বার্তা দিলেন।