ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির কাছেও এসআইআর শুনানির নোটিস

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকির কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছনোর পর। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশ হাতে পেয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন ত্বহা। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, যার মূল নিশানায় রয়েছেন সংখ্যালঘু ভোটাররা।

শুক্রবার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, ‘আমাকে এসআইআর শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুনছি, আমার আব্বার নামেও নাকি নোটিশ পাঠানো হবে। যদিও তিনি বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন।’ এই ঘটনাকে তিনি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত বলেই দেখছেন।

ত্বহার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যাঁদের এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের বড় অংশই মুসলমান। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির ইন্ধনেই এই প্রক্রিয়া চলছে। ওদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানরা তৃণমূলকে ভোট দেবে। তাই কী ভাবে এই ভোটারদের বাদ দেওয়া যায়, তারই চেষ্টা চলছে।’


ফুরফুরা পঞ্চায়েত এলাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে মোট প্রায় ১৪ হাজার ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার জনের কাছে এসআইআর শুনানির নোটিস পৌঁছেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ৭ হাজারের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮৫০ জনই সংখ্যালঘু মুসলমান। যদিও ত্বহা স্পষ্ট করেন, শুধু মুসলমানরাই নন, কিছু হিন্দু নাগরিকও এই নোটিস পেয়েছেন।

ত্বহার বক্তব্য, ‘এখানে প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার রয়েছে, যাঁদের কাছেও নোটিশ গেছে। তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেন বলেই তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন করেন, তাঁদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এসআইআর ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, অভিনেতা দেব, মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বসু (টুটু), কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাছেও শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিরোধীদের অভিযোগ, বিশিষ্টজনদের ডেকে ‘অপমান’ করা হচ্ছে এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

ত্বহা সিদ্দিকির নোটিশ পাওয়া সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এসআইআর-এর নামে ভোটার তালিকা সংশোধন না কি রাজনৈতিক বাছাই, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।