সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে ডিম-গোবর, আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধুন্ধুমার

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে। গতকাল বেশি রাতে এই গ্রেপ্তার করা হয়। আর মঙ্গলবার সব্যসাচীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায়। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলো ডিম ও গোবর। সেসব পুলিশের গায়েও লেগেছে। আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য বিধাননগর উত্তর থানা থেকে সব্যসাচী দত্তকে বের করতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম-গোবর ছোড়ে উত্তেজিত জনতা। দেওয়া হয় চোর-চোর স্লোগানও।

এদিকে এই ঘটনায় বেশ বেকায়দায় পড়ে যান সব্যসাচী দত্ত। অনেক চেষ্টা করেও সেসব আটকাতে পারেননি তিনি। বরং গায়ে লাগে ডিম-গোবর। চোর চোর স্লোগান শুনেও কোনও উত্তর দেননি তিনি। পালাতে ব্যস্ত ছিলেন। কোটি টাকার তোলাবাজি, মানসিক নির্যাতন এবং খুনের হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। তাই সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। তাঁকে আজ বিধাননগর আদালতে তোলার সময় চেনা ছবিই ধরা পড়ল। অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের মতো তাঁকে দেখেও উত্তেজিত জনতা ছুড়ল ডিম ও গোবর।

অন্যদিকে মঙ্গলবার আদালতে তোলার আগে সব্যসাচী দত্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর আদালতে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। কেন গ্রেপ্তার সব্যসাচী? পুলিশ সূত্রে খবর, মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর থেকে নগদ এক কোটি টাকা নেন সব্যসাচী দত্ত। টাকা পেতে মানসিক চাপ করেছিলেন তৃণমূল নেতা। মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন তিনি। এখন সরকার বদল হওয়ায় সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন।


তাছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। তবে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তারপর থেকেই তাঁকে সেভাবে পথে দেখা যায়নি। এবার অভিযোগ দায়ের হতেই সামনে এলেন তিনি। এদিন আদালতে যাওয়ার পর সব্যসাচী দত্তের সাফাই, ‘অভিযোগকারী নিজেই বিধাননগর উত্তর থানায় ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। নানা সময়ে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার পরে ২০১৮ সালে তাঁর পরিবারের লোক এবং এক ব্যবসায়ী আমার কাছে এসেছিলেন তাঁকে বের করিয়ে দেওয়ার জন্য।’কিন্তু এসব কথা কেউ শুনতে নারাজ। তাই তাঁকে দেখতে পেয়েই ডিম-গোবর ছোঁড়া হলো।