‘দলবদল রাজনীতিরই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’: এনসিপিআই প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু

তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগদানের ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যেন এক লহমায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। ত্রিপুরাভিত্তিক এই ছোট আঞ্চলিক দলের সাংসদ সংখ্যা আচমকাই বাংলায় ২২-এ পৌঁছতেই এই দলকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে  কৌতূহলও তৈরি হয়েছে। এই আবহেই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মুখ খুললেন এনসিপিআইয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে।

নতুন সদস্যদের দলে স্বাগত জানিয়ে শান্তনু বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে সবাইকে স্বাগত। রাজনীতিতে পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, মানুষ কখনও কংগ্রেস, কখনও সিপিএম, কখনও তৃণমূল— রাজনীতির ময়দানে পরিবর্তন চলতেই থাকে।’

তবে ২২ জন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের যোগদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানান তিনি। উত্তমের কথায়, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। তারপরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি জানান, এনসিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তিনি নিজে এছাড়াও দিলীপ রায়, তরুণ কুমার-সহ আরও কয়েক জন। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।


দলে যোগ দিতে আসা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেননি শান্তনু। তাঁর মতে, দলবদল গণতান্ত্রিক রাজনীতিরই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ‘যাঁরা মানুষের জন্য কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা,’ বলেন তিনি।

আগামী বিধানসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও নির্বাচনে এনসিপিআই কী ভূমিকা নেবে, সে বিষয়েও এখনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি দলের নেতৃত্ব। শান্তনু জানান, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ- এর কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রথমে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২২ জন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের যোগদানের ঘোষণার পর এনসিপিআইকে ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ যে বেড়েছে, তা মানছেন দলের নেতারাও। তবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বক্তব্যে স্পষ্ট, আপাতত তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না দল। আলোচনার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করতে চায় তারা। তবে বাংলার রাজনীতিতে আগামীতে তারা কোন পদক্ষেপ রাখতে চায় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।