বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলি আসছে নতুন রূপে, বিরাট খবর দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী

Dilip Ghosh Photo-SNS

তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিকে এবার নতুন রূপে নিয়ে আসা হচ্ছে। এমন চর্চা ছিলই। এবার সেগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মে চলা কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) পরিণত করা উচিত বলেই জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগও করেছেন তিনি। তৃণমূল জমানায় বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ নানা সরকারি নথি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ দিলীপের।

এবার এই অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ তদন্ত করে কেন্দ্রগুলিকে নতুন করে বাছাই করার দাবি তুললেন দিলীপ ঘোষ। বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বহু অনুপ্রবেশকারী সরকারি পরিচয়পত্র পেয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। আর তাই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এতদিন বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকে কিছু সাহায্য করার পাশাপাশি অনেক বেনিয়মও এখানে করা হয়েছে। অন্য দেশ থেকে মানুষ আসতেন আর তাঁদের নামও ছবি ব্যবহার করে নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হতো।’

এই কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি) থেকে এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষজনকে নানা পরিষেবা দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে দেশকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাই এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ হওয়া জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলির কাজকর্ম স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে পুনরায় বাছাই করা উচিত। রাজ্যে নতুনভাবে সিএসসি চালু করা দরকার। তাহলে সেটা দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্র এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ভাল হবে। সিএসসি এবং বিএসকে উভয় কেন্দ্রই সরকারি প্রকল্পের জন্য অনলাইন আবেদন করার সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে চালু হয়েছিল। সিএসসি কেন্দ্রের দ্বারা পরিচালিত। আর বিএসকে চালু করেছিল আগের রাজ্য সরকার।’


তাছাড়া কমন সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিকে যুক্ত করে নতুনভাবে চালু করার প্রস্তাব দেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘বাংলায় ২৩ হাজার সিএসসি রয়েছে। আর বিএসকের সংখ্যা তিন হাজার। এই বিএসকেগুলিকেই সিএসসি’তে পরিণত করার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। বাংলায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের দেশে থাকার কোনও অধিকার নেই। এই ব্যক্তিরা নানা সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস যোজনা, জব কার্ড-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভুয়ো নথির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।’