‘এখন তো ঘাস আর জোড়াফুল আলাদা হয়ে গিয়েছে’, তৃণমূলকে খোঁচা দিলীপের

নিজস্ব চিত্র

বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তার পর থেকে দল ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। সাংসদরা ২০ জন মিলে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল বলে আলাদা হয়ে গিয়েছে। রোজই নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন। এই নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে খোঁচা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। যা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

এদিকে দলের প্রতীক এবং তহবিল দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। কদিনের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর। এই আবহে তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন নিয়ে খোঁচা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এখন তো ঘাস আর জোড়াফুল আলাদা হয়ে গিয়েছে। এরপর যদি আরও ভাগ হয়, তবে জোড়াফুলের দুই ফুলও আলাদা হয়ে যাবে। তৃণমূলের এবার নাম বদলে অন্য কিছু ভাবা উচিত। অথবা সরাসরি কংগ্রেসের লোগো ব্যবহার করা দরকার।’

অন্যদিকে রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চিত হচ্ছে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবে তৃণমূল। সদ্য ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে গিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক হয় সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। তারপর থেকেই এমন গুঞ্জন শুরু হয়। এবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী যে কংগ্রেস থেকে যাঁরা বেরিয়ে আসেন, তাঁদের অনেককেই একদিন আবার কংগ্রেসে ফিরে যেতে হয়। তৃণমূলেরও এখন সেই পথেই হাঁটা উচিত।’ এখানেই শেষ নয়, ডিজে বাজানো মন্তব্য নিয়ে মামলায় আগামী ৩০ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করবে সিআইডি। এই বিষয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘সবাই তো চোখের সামনে লাইভ দেখেছেন। এখন ভয়েস মিলিয়ে আর কী হবে?’


তাছাড়া মিড-ডে মিলে ডিম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আগের সরকারের বিরুদ্ধে আড়াই লক্ষ কোটি টাকার হিসেব না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে এই দুটি বিষয়েও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। সরাসরি কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বা হাসপাতালে খাবারের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি রাজ্য সরকার দেখবে। হরিণঘাটা থেকে মিড-ডে মিলের জন্য সাড়ে তিন টাকায় ডিম দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার যদি বিজেপির বা কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে সাহায্য চায়, তবে তাঁরাও ভেবে দেখবেন। আর মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন ফিকি-কে কত কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ঘুরেফিরে আগের সরকারের হাতেই গিয়েছিল। তাহলে এই টাকার হিসেব দেবে কে?’