তাঁকে হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে। রবিবার এমনই অভিযোগ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। মমতার সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করে বললেন, ‘উনি ভুল বকছেন। ওনার গণতান্ত্রিক অধিকার কখনওই কেড়ে নেওয়া হয়নি। উনি তো দেখতে পাচ্ছেন ওনার দলের নেতারা যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই ডিম খাচ্ছেন। তাই ওনাকেও কেউ যাতে ডিম না খাওয়ায়, সেটা নিশ্চিত করতেই তৃণমূল নেত্রীকে সম্মানের সঙ্গে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সরকার ওনার সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মমতা। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। কথা বলেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর পরই রবিবার সন্ধ্যা থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনের রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল মমতার বাড়ি। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মমতা সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, তাঁর বারুইপুর যাওয়া আটকাতেই শুভেন্দু সরকার তাঁকে হাউস অ্যারেস্ট করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি চোর না ডাকাত? আমাকে নিয়ে এত দুশ্চিন্তা কিসের? আমাকে নজরবন্দি কেন করা হয়েছে? আমি তো একা যাব বলেছিলাম।’ মমতার ওই বক্তব্য সামনে আসতেই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতারাও বিষয়টি সোচ্চার হন। সরকারের সমালোচনা শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ।
মমতার বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওনার স্মরণে থাকা উচিত আমরা যখন বিরোধী শিবিরে ছিলাম তখন আমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতেন। কোনও ঘটনায় আমরা ঘটনাস্থলে গেলে আমদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হতো। কতবার আমাদের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, গো-ব্যাক বলা হয়েছে, কালো পতাকা দেখানো হয়েছে এসব কথা উনি মনে করে দেখুন। ওনার বোঝা দরকার বিরোধী শিবিরে থাকলে অনুভূতি কেমন হয়।’ তবে দিলীপের দাবি, কোনওভাবেই তৃণমূল নেত্রীর গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়নি। ওনাকে ডিমের হাত থেকে বাঁচাতেই এই বাড়তি সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হয়েছিল।
তবে সোমবার পরিস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। সূত্রের খবর রবিবার রাতের দিকেই মমতার বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরানো শুরু হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর যতটা নিরাপত্তা প্রাপ্য সোমবার সকালে তাঁর বাড়ির সামনে ততটুকু ব্যবস্থাই ছিল। তবে বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ সরলেও, বাড়ির সামনের রাস্তায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।