তৃণমূল সরকারের জমানায় নানা বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে। গোটা পশ্চিমবঙ্গেই এই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেগুলি খুঁজে দেখা হচ্ছে। সব সামনে নিয়ে আসা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। এই কথাগুলি আগেই বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার পশ্চিমবঙ্গের সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যম তা সম্প্রচার করতে শুরু করেছে। যদিও এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে একাধিক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষের কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়ায়। বুধবার তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে সিবিআই তলব, আমফান ক্ষতিপূরণ দুর্নীতি নিয়ে আগের রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তবে এখন মদন মিত্র ভাল তৃণমূলে চলে গিয়েছেন। তারপরও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলেদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এবার ডাক পড়েছে কামারহাটির বিধায়কের। তা নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি সরগরম। যা নিয়ে মন্তব্য করেছেন খড়গপুরের বিধায়ক।
অন্যদিকে মদন মিত্র এদিন দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিয়ে তারপর ইডি দপ্তরে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আবহে মদন মিত্রের ইডি তলব নিয়ে প্রশ্ন করা হয় পঞ্চায়েতমন্ত্রীকে। তার জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রশংসা অথবা নিন্দায় কিছু যায় আসে না। যে যা কর্ম করেছে, তাঁকে তার ফল ভোগ করতেই হবে। যদি উনি কোনও অন্যায় না করে থাকেন তাহলে ভয়ের কোনও কারণ নেই।’ মদন মিত্র কি ভয় পাচ্ছেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও নোটিস পাওয়ার পর মদন মিত্র বলেছিলেন, ‘তদন্তে আমি সবরকম সাহায্য করব। যতবার ডাকবে ততবার যাব। আইন আইনের পথে চলবে।’
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জমানায় একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। সর্বস্তরে দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। কেমন দুর্নীতি হয়েছিল? এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে অপরিসীম দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে, তাতে যুক্ত প্রত্যেককেই একদিন বিচারে মুখোমুখি হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে। যে সমস্ত ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত হবেই। এই বিষয়ে যারা যারা যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’