বন্ধ কেন্দ্রীয় গ্রামীণ প্রকল্প ফের চালুর ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

মমতার জমানায় দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা একাধিক গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প ফের চালু করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। একই সঙ্গে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার নবান্নে পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, গ্রামবাংলার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার এগোচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, আবাসন, সড়ক নির্মাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতে ফের গতি এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা রাজ্যে পৌঁছতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘গ্রামের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। উন্নয়নের সুফল যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’

গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ঘোষণা করা হয়েছে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে। প্রায় ২ হাজার ৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সরাসরি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবেন। প্রশাসনের মতে, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বাজারে পৌঁছনো সহজ হবে, পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলবে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রায় আড়াই কোটিরও বেশি জব কার্ডধারীর জন্য নতুন করে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কর্মসংস্থান ও জীবিকাভিত্তিক গ্রামীণ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত মজুরিভিত্তিক কাজ পাবে। প্রশাসনিক অনুমোদন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, রাজ্যের তিন স্তরের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বর্তমানে ১১ হাজার ১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৩৬টি পদে সরাসরি নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।


পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরে প্রায় ৭ লক্ষ গৃহস্থালি শৌচাগার, ৫ হাজার কমিউনিটি স্যানিটেশন কমপ্লেক্স, ৭০টি বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র এবং ৩৬টি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবর্ষে ১ লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ২০ লক্ষ মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।