কার্শিয়াঙের ঘন পাহাড়ি জঙ্গলে বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বনবিভাগ। একই সঙ্গে দু’টি কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি ধরা পড়েছে ট্র্যাপ ক্যামেরায়। রবিবার সকালে সেই ছবি প্রকাশ করেছে কার্শিয়াং বনবিভাগ। এর আগে ওই জঙ্গলে একাধিকবার কালো চিতাবাঘের দেখা মিললেও, একসঙ্গে দু’টির উপস্থিতি এই প্রথম বলে জানাচ্ছেন বনকর্তারা।
বন দপ্তরের মতে, এটি একটি অত্যন্ত ‘দুর্লভ মুহূর্ত’। সম্প্রতি নজরদারি বাড়াতে পাহাড়ি জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সেখানেই ধরা পড়ে পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো দু’টি কালো চিতাবাঘের ছবি। এই দুই চিতাবাঘ দম্পতি না কি ভাইবোন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা। বন দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তারা দম্পতি হয়ে থাকে, তবে ওই এলাকায় শাবক থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কার্শিয়াঙের জঙ্গলে কালো চিতাবাঘের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আবার তারা ভাইবোন হলেও ওই জঙ্গলে আরও কালো চিতাবাঘ থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে।
কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ঘন পাহাড়ি অরণ্যে দুটি ‘ম্যালানিস্টিক লেপার্ড’-এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আগেও কালো চিতাবাঘ দেখা গিয়েছিল। তবে এবার একই সঙ্গে দুটি কালো চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ সংগঠনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরীর মতে, এই দুই চিতাবাঘের লিঙ্গ নির্ধারণ বা গায়ের দাগের ধরন বিশ্লেষণ করলেই তারা দম্পতি না ভাইবোন, তা স্পষ্ট হবে। তবে একসঙ্গে এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বিরল।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ‘ম্যালানিস্টিক লেপার্ড’ আসলে চিতাবাঘই। জিনগত কারণে শরীরে মেলানিনের আধিক্য থাকায় তাদের কালো রঙের দেখায়। এর আগেও কার্শিয়াঙের জঙ্গলে কালো চিতাবাঘ এবং সম্প্রতি একটি ‘ম্যালানিস্টিক বার্কিং ডিয়ার’-এর দেখা মিলেছিল।