কমিশনের কড়া অভিযানে বাজেয়াপ্ত ৫১০ কোটির বেশি

ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন ধরপাকড়ে নামল নির্বাচন কমিশন। নগদ টাকা, মদ, মাদক, মূল্যবান ধাতু এবং বিভিন্ন ফ্রি-বি মিলিয়ে রাজ্যে মোট বাজেয়াপ্তের অঙ্ক ইতিমধ্যেই ৫১০.১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সোমবার কমিশনের প্রকাশিত প্রেস নোটে এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, আচরণবিধি জারির পর থেকেই বেআইনি প্রলোভন, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং অবাধ নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন সমস্ত কর্মকাণ্ড রুখতেই জোরদার নজরদারি শুরু হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় লাগাতার তল্লাশি, নাকা চেকিং এবং বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যে বর্তমানে ২,৭২৮টি ফ্লাইং স্কোয়াড টিম  এবং ৩,১৪২টি স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম মোতায়েন রয়েছে। এই বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন তল্লাশি, সন্দেহভাজন সামগ্রী আটক এবং গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে বেআইনি মদের মজুত, উৎপাদন ও পাচার রোধে।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা নগদ, ১১০.১২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, ৫৮.২৮ কোটি টাকার মূল্যবান ধাতু এবং ১৮৪.৮৫ কোটি টাকার ফ্রি-বি বা অন্যান্য সামগ্রী। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মদও উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট অঙ্ক পৌঁছেছে ৫১০.১০ কোটিতে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই অঙ্ক ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট ৩৩৯ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে চলতি নির্বাচনে কমিশনের নজরদারি ও অভিযানের কড়াকড়ি যে বহুগুণ বেড়েছে, তা স্পষ্ট বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, রাজ্যে শান্তিপূর্ণ, ভয়মুক্ত এবং প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চলছে। ভোট যত এগোবে, ততই নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।