৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি, প্রায় ১৩ লক্ষের নাম বাদ

Election Commission of India (Photo: IANS TWITTER)

অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানার পর নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যান সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম ছিল বিবেচনাধীনের তালিকায়। সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত হয় প্রথম অতিরিক্ত তালিকা।  তবে কত জনের নাম তালিকায় রয়েছে, তার কোনও পরিসংখ্যান জানা যায়নি। প্রায় দু’দিনের মাথায় জানা গেল এখনও পর্যন্ত ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আচমকা নতুন সমস্যার দেখা দেয় কমিশনের ওয়েবসাইটে। অভিযোগ ওঠে, এপিক নম্বর দিয়ে খোঁজ করলেই প্রায় সব ভোটারকেই ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখাচ্ছে, এমনকি যাঁদের নাম আগেই চূড়ান্ত তালিকায় ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যাচ্ছিল।

এই ঘটনায় বিভ্রান্ত হয়ে বহু ভোটার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ফোন করে অভিযোগ জানান। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদেরও ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখানোয় উদ্বেগ বাড়ে। চমক আরও বাড়ে যখন দেখা যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  নামের পাশেও ‘বিবেচনাধীন’ লেখা রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে একই বিষয় দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের তরফে জানানো হয়, এটি একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’।


পরবর্তীতে, মঙ্গলবার গভীর রাতে সমস্যার সমাধান হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, এখন আর চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ভোটারদের ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখাচ্ছে না এবং ওয়েবসাইটের ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে ঠিক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ১০ লক্ষ নাম রয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে।

অর্থাৎ ১৩ লক্ষ নাম নতুন করে বাদ পড়েছে। তবে প্রথম অতিরিক্ত তালিকার ১০ লক্ষ নামের মধ্যে কতজনের নাম ডিলিশন লিস্টে আছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা  প্রকাশিত হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সেই তালিকা বেরনোর কথা নিশ্চিত করেনি কমিশন। প্রতিদিন তালিকা বের করা হবে কি না, তাও ভেবে দেখছে কমিশন।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন।  সেই সময় প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। এই তালিকা নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন ৭০৫ জন বিচারক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, এই নিষ্পত্তির ফল ধাপে ধাপে প্রকাশ করার কথা জানানো হয়েছে।সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদিকে, যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের জন্য আইনি পথ খোলা রাখা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট  ইতিমধ্যেই ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করেছে, যেখানে বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন জানাতে পারবেন।