ওড়িশায় বাংলা ভাষা বলার অপরাধে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার। জুয়েল রানার পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী জুয়েল রানার মাকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন মৃতের মা। নাজেমা বিবিকে সুতি ১ নম্বর ব্লকের বিএলআরও অফিসে অ্যাটেন্ডেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় খুন বাংলার শ্রমিক জুয়েল রানা। বয়স ২১ বছর। মুর্শিদাবাদের সুতি ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা জুয়েল রানা জীবিকার প্রয়োজনে গত ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে যান। দিন মজুরের কাজ করতেন তাঁরা। ২৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সঙ্গে ছিলেন আরিক ও পলাশ। তাঁরা বাংলায় কথা বলছিলেন। সেই সময় পাঁচজন দুষ্কৃতীর দল সেখানে উপস্থিত হয়। তারা মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে অশান্তি করতে থাকে। শ্রমিকরা বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁদের বাংলাদেশি বলে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সেই ঘটনার পরই তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। সবরকম সাহায্য করা হবে।‘ এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চাকরি পেলেন জুয়েল রানা। মঙ্গলবার রাতে মৃত জুয়েল রানার মায়ের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র তুলে দেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান।