সন্দেশখালিতে হঠাৎ এনএসজির টহল নিয়ে ভরদুপুরে শোরগোল পড়ে যায়। আসলে এটা মহড়া। সন্দেশখালি থানার অন্তর্গত ধামাখালির একটি হোটেলে শনিবার এই মহড়া চালানো হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ওই মহড়ায়। যা নিয়ে বেশ কৌতূহল শুরু হয়। সন্দেশখালি বারবারই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে আগে। সেখানে এদিনের মহড়া অনেকের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এখানে কি সন্ত্রাসবাদীরা আছে? সন্ত্রাসবাদীরা হানা দিতে পারে? কোনও বড় কিছু ঘটতে পারে? কোনও হাই অ্যালার্ট আছে নাকি?
ভরদুপুরে হঠাৎ চারপাশ ঘিরে ফেলে কমান্ডো বাহিনী। তাঁরা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। ন্যাশানাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি-র জওয়ানরা রাতারাতি একটি হোটেল ঘিরে ফেলে ভিতরে ঢুকে পড়েন। টানটান সিনেমার দৃশ্যের মতো লাগতে থাকে। খবর পেয়ে দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সন্দেশখালি থানার পুলিশও। ভরদুপুরে এমন নাটকীয় দৃশ্য দেখে চমকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে চাউর হয়ে যায়, হোটেলে নাকি গা-ঢাকা দিয়েছে জঙ্গিরা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে, আসল কোনও অভিযান নয়, এটি ছিল এনএসজি’র পূর্বপরিকল্পিত একটি বিশেষ মহড়া বা ‘মকড্রিল’।
পরিকল্পিত মহড়ার জন্য আগেই সন্দেশখালি থানার কাছে বার্তা পাঠানো হয় যে ধামাখালির একটি গেস্ট হাউসে কয়েকজন পর্যটককে পণবন্দি করে রেখেছে জঙ্গিরা। এই খবর দেওয়া হয় এনএসজি-কে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই এনএসজি কমান্ডোরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং কৌশলকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা হোটেলের ভিতরে ঢুকে পড়েন এবং পণবন্দি পর্যটকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে জঙ্গিদের কাবু করেন। কমান্ডোদের এই নিখুঁত অপারেশন দেখতে হোটেলের বাইরে ব্যাপক ভিড় জমান কৌতূহলী স্থানীয় মানুষজন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ডো বাহিনীর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এই মহড়া চালানো হয়েছে। তার আগে কালীঘাট মন্দির চত্বরেও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তিনদিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং রেইকি চালিয়েছিলেন এনএসজি আধিকারিকরা। কিছুদিন আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ধামাখালিতে কমান্ডো বাহিনীর এমন তৎপরতা এবং মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।