তারাপীঠে এবার চালু হতে চলেছে ডিজিটাল টিকিট এবং কুপন। গোটা দেশ যখন ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় গা ভাসিয়েছে তখন তীর্থস্থান তাতে যুক্ত হবে সেটাই দস্তুর। বরং এই ব্যবস্থা চালু হলে পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে ভিভিআইপি সকলের সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থা চালু হতে বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী রবিবার থেকেই ভিআইপি লাইনে পুজো দিতে ৫০০ টাকার কাগজের কুপন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তে পুণ্যার্থীরা নির্দিষ্ট একটি মোবাইল অ্যাপে টিকিট বুক করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর এবং মন্দির কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে এই বিষয়টি নিয়ে নবীন প্রজন্মের কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু প্রবীণদের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। দর্শনার্থীদের প্রথমে মোবাইলে নির্দিষ্ট অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। সেখানে নাম এবং মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে। সেটা করলেই মোবাইলে আসবে ওটিপি। যা দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে ৫০০ টাকা অনলাইন পেমেন্ট করলেই টিকিট মিলবে মোবাইলে। হোটেল, ট্রেন বা বাসে বসেই এই টিকিট অনলাইনে কেটে ফেলা যাবে। তারাপীঠ মন্দিরের ভিআইপি লাইনে থাকা প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির কর্মীরা মোবাইলের সেই ডিজিটাল টিকিট দেখে দ্রুত দর্শনের সুযোগ করে দেবেন।
এখন গুগল পে, ভারত পে, পেটিএম-সহ নানাভাবে টাকার লেনদেন করা যায়। বিশেষ করে যাঁদের স্মার্টফোন আছে তাঁদের এমন অ্যাপও আছে। সেখানে তারাপীঠ মন্দিরে টিকিট কাটার জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। তাহলেই মসৃণভাবে দর্শন করা যাবে। এই বিষয়ে রামপুরহাটের মহকুমাশাসক বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে অনলাইন টিকিট চালু হলেও পরে অ্যাপে ভিড়ের আপডেট দেখে ‘টাইম স্লট’ বুক করার সুবিধাও রাখা হবে। তার ফলে পুণ্যার্থীদের আর মন্দিরে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় করতে হবে না।’ আর বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানান, পর্যটকদের সময় বাঁচাতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রাখতেই এমন পদক্ষেপ।
তাছাড়া সামনে কৌশিকী অমাবস্যা রয়েছে। তখন ভিড় করবেন পুণ্যার্থীরা। সেসময় কি অনলাইনে টিকিট মিলবে? এই বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে পরে এটি স্থায়ী করা হতে পারে। সেটা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’