সামনেই রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম। আর হাতে সময় রয়েছে ৯ দিন। সেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মৃত্যু কামনা করলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এমন কথা প্রকাশ্য দিবালোকে বলে রাজ্য-রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছেন নওদার বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে আক্রমণ করা যায়? এটা রীতিমতো ঘৃণ্য রাজনীতির নির্লজ্জ নজির বলে মনে করছেন অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনার নেপথ্যে কি রাজনীতিতে পেরে না ওঠা? উঠছে প্রশ্ন। রবিবার ভরা সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে।
এমন রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে ছিল না। বিরোধিতা করতে গিয়ে মৃত্যু কামনা করা আগে দেখেনি এই রাজ্য। রাজনীতিতে সৌজন্য যে হারিয়ে যাচ্ছে তা ক্রমাগত আক্রমণ এবং ভাষা ব্যবহার থেকেই স্পষ্ট। সেখানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায় উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব। তিনি যেন তাড়াতাড়ি উপরে যাওয়ার টিকিট কেটে দেন। অহঙ্কারের পতন হবে, পৃথিবী থেকে যেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর উনি হাতির পাঁচ পা দেখেছেন। সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে এই আমলে।’
এবার রেজিনগর থেকে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। কিন্তু তাঁর একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়ে গিয়েছেন নানা অভিযোগে। বাধ্য হয়ে প্রচার থেকে সরে গিয়েছেন তিনি। বারবার থানার সামনে ধর্না দিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে রেজিনগর নির্বাচনে হুমায়ুনের ছেলে হেরে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের মত। তাই কি এভাবে অভিশাপ দিলেন তিনি? উঠছে প্রশ্ন। হুমায়ুন রবিবার সাংবাদিকদের সামনে কদর্য ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করলেন, ‘আমাদের অসম্মান করলে ক্ষমতাচ্যুত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। শুক্রবারে নামাজ পড়ব, বলব, এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়, উপরওয়ালা যেন ওকে ওঁর টিকিট কাটিয়ে দেয়। হঠাৎ করে ছত্তিশগড়ের একজন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তাঁর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, মহারাষ্ট্রে শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, ইন্দিরা গান্ধী-রাজীব গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে, এর এত অহঙ্কার? অহঙ্কারের পতন হবে। ওইভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে।’
হুমায়ুনের এই মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে কারণ এখানে সরাসরি খুনের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে। এই মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার হতে পারেন তিনি। হুমায়ুনের এমন মন্তব্য রাজনীতিতে বেনজির। সকলেই হুমায়ুনের নিন্দায় মুখর। তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যতা এখন নিম্নমানে চলে গিয়েছে। এত নির্লজ্জভাবে কেউ এমন বলতে পারে ভাবতেই পারিনি। হতে পারে উনি শুভেন্দু অধিকারীকে পছন্দ করেন না, ওঁর নীতি অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু কারও মৃত্যু কামনা করা যায়? তীব্র নিন্দা করছি। শুভেন্দু অধিকারী কারও দয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হননি, জনগণ মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। শকুনের অভিশাপে গরু মরে না।’