উত্তর দমদমে খুন হলেন পুলিশের খাতায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত রাজা দত্ত। সোমবার ভোরে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে উত্তর দমদম পুরসভার খলিসাকোটা এলাকার একটি গ্যারাজের পাশ থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেশ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীরে একাধিকক গুলি চিহ্ন ছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় রাজার আরও দুই সঙ্গী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিরাটির বাসিন্দা রাজা দত্তকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশের অনুমান, এই হত্যার পিছনে গোষ্ঠা সংঘর্ষ বা গ্যাংওয়ার থাকতে পারে। সোমবার ভোরে রাজা দত্ত মোটরবাইকে করে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে যাচ্ছিলেন। সেই সময় অন্য গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় রাজার কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, আগে থেকেই খলিসাকোটা এলাকায় ওত পেতে ছিল দুষ্কৃতীরা এবং তারা রাজার পূর্বপরিচিত। রাজা তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা কোন পথ দিয়ে পালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুলি চলার খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং তারাই রাজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে শেষ তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিভি্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজা দত্ত। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (দক্ষিণ) শামীম আহমেদ।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ চৌধুরীর দাবি, এলাকায় আগে একটি তৃণমূল পার্টি অফিস ছিল, সেখানে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা ছিল। রাতে ওই পার্টি অফিসে বাঙচুরের খবর পাওয়া গিয়েছিল। যদিও কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, যেখানে রাজা দত্তকে খুন করা হয়েছে, সেই রাস্তার ধারে প্রতি বছর বড় করে সরস্বতী পুজো হয়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি দুষ্কৃতীচক্র কাজ করছে। জমি দখল, মারধর ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ দুষ্কৃতীমুক্ত হোক, সেটাই এলাকার মানুষের দাবি।