চলতি বছরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার আলিপুরদুয়ার যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ওই জেলায় তাঁর দুটি বড় জোড়া কর্মসূচি রয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক মহল ও বন দপ্তরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ২২ সেপ্টেম্বর গন্ডার দিবসে আলিপুরদুয়ারে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবার ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়ার অনুষ্ঠান রয়েছে। এর জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এসবের পাশাপাশি গন্ডার দিবস যাতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য তৎপর বন দপ্তর।
বন দপ্তর সূত্রের খবর, গন্ডার দিবসের জন্য দুটো জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই দুটো জায়গার মধ্যে একটি হল মাদারিহাট হাইস্কুলের পাশের মাঠ। অন্যটি হল হাসিমারার কাছে সুভাষিণী চা বাগানের মাঠ। তবে এখনও পুরো বিষয়টা চূড়ান্ত নয়। গন্ডার দিবস উপলক্ষ্যে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করবে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করা হবে।
গন্ডার দিবসের দিন শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন হতে পারে। গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিয়ান চালিয়ে বন দপ্তর বন্যপ্রাণীর দাঁত, চামড়া, সিং-সহ যা যা উদ্ধার করেছে সেদিন সব কিছু সেদিন পুড়িয়ে ফেলা হবে। বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওইসব জিনিস পুড়িয়ে চোরাকারবারি ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হবে। বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারের চেষ্টা করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তাই এর মাধ্যমে মূলত পৌঁছে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে বাড়ছে ডেঙ্গির দাপট, আগামী বছরেই আসছে টিকা, ঘোষণা আইসিএমআর-এর
এই বিষয়ে জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ ও বিশাল লামা, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, বন দপ্তরের সহকারী মুখ্য সচিব মণীশ জৈন, রাজ্যের মুখ্য বনপাল সন্দীপ সুন্দ্রিয়াল, উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল জেভি ভাস্কর-সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বনমন্ত্রীর বলেন, ‘দুটো জায়গা দেখা হয়েছে। তার মধ্যে যে কোনও একটি জায়গায় তো অনুষ্ঠান হবেই। আর মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানের কথা শুনে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটাই বড় প্রাপ্তি।’