নাগাড়ে বৃষ্টি আবার চাপে ফেলে দিয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষজনকে। টানা একঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং এবং সিকিম যাওয়ার পথ। উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে একঘণ্টা ভারী বৃষ্টিতে ভেসে যায় উত্তরবঙ্গের রাস্তাঘাট। প্রবল বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। তিস্তা এবং মহানন্দারও জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সিকিম যাওয়ার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এটাই উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় লাইফলাইন।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা ছিল না। যদিও এদিন সকাল থেকেই হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। একঘণ্টা নাগাড়ে বৃষ্টি হয়। শিলিগুড়িতে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে জলমগ্ন হয়ে বিপর্যস্ত হয়েছে শহরের হায়দারপাড়া এবং চম্পাসারি এলাকা। এখানকার মানুষজন কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মহানন্দার দুই পাড়ের ১, ৪ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড। দুপুর ১২টা নাগাদ এলাকা থেকে অনেকটা জল নেমে গিয়েছে। শুধু সমতলেই নয়, পাহাড়েও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেখানের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টি হয়েছে কার্শিয়াংয়ে। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। কালিম্পংয়ে বৃষ্টি ৫৭ মিলিমিটার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, নাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে সকাল থেকে। তার সঙ্গে বাজ পড়ছে মারাত্মক হারে। এই আবহে রুদ্ররূপ নিয়েছে পাগলাঝোরা। এই কারণে জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাগলাঝোরায় বৃহস্পতিবার সকালের বৃষ্টি এবং প্রকৃতির ভয়াল রূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কদিন আগেই পাহাড়ে ভয়াবহ বৃষ্টির জেরে তিস্তা নদীর জল বিপদসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকী ধস থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
এদিন সিকিমের বরদাংয়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কেও নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছে। তবে দ্রুততার সঙ্গে ধস সরানোর কাজ চলছে। ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তায় জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল বলে সোমবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সিকিমগামী এই সড়ক। তার পরে জল নামতেই দুপুরে ওই রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছিল। তার পরে বিকেলে আবার সেবকের করোনেশন সেতুর কাছে ধস নামায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় এনএইচ-১০। তিস্তা বাজার থেকে দার্জিলিংগামী পেশক রোডও জলমগ্ন হয়ে গিয়েছিল। গেইলখোলায় কোরার জলের তোড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জাতীয় সড়ক। কালিম্পংয়ে রকভিল স্কুলের কাছে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি বাড়িও।