মৎস্যজীবী সমিতির সম্পত্তি লুট, টাকা তছরুপ! অভিযোগ সমবায় সমিতির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

Photo: Statesman

মৎস্য সমবায় সমিতিতে কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ ও সম্পত্তি লুটের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য পুরাতন মালদায়। অভিযোগের কেন্দ্রে তৃণমূল নেতা তথা মৎস্য সমবায় সমিতির সম্পাদক শম্ভু হালদার। সমিতির অফিস জুড়ে পড়ল একের পর এক দুর্নীতির পোস্টার। সেই পোস্টারে সরাসরি সমিতির ম্যানেজারের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমাদের সম্পত্তি ও টাকা লুট করা হয়েছে।’ এই লুটের সঙ্গে জড়িত সমিতির ম্যানেজার সুকুমার দে দাসের নাম রয়েছেl  শুধু তহবিলের টাকা তছরুপ নয়, মৎস্যজীবীদের জলকরের দিঘি এবং সমিতির মালিকানাধীন আমবাগান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় দেখা মিলছে না সম্পাদক তথা তৃণমূল নেতা শম্ভু হালদারের।

পুরাতন মালদা এলাকার প্রায় ৪০০ জন মৎস্যজীবী এই সমবায় সমিতির সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, সদস্যদের অন্ধকারে রেখে একের পর এক সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। সমিতির তহবিল থেকেও বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাঠগড়ায় তৃণমূলের নেতা তথা সমিতির সম্পাদক শম্ভুনাথ হালদার ও ম্যানেজার সুকুমার দে দাস।


বুধবার সমবায় সমিতির দপ্তরে একের পর এক দুর্নীতির পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ম্যানেজার সুকুমার দে দাসের নাম উল্লেখ করে দুর্নীতি ও লুটের টাকার অভিযোগ তুলে পোস্টার পড়েছে সমিতির অফিসে। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। মৎস্যজীবীদের দাবি, সমিতির নামে হওয়া দুর্নীতি ও অর্থ লুটের ঘটনার অবিলম্বে সম্পাদক ও ম্যানেজারের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা ও সমিতির সম্পত্তি উদ্ধার করে সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মৎস্যজীবী সমিতির ম্যানেজার সুকুমার দাস বলেন, ‘আমার অজান্তে সম্পাদক শম্ভু হালদার বাগানটি বিক্রি করেছে। আমাকে কিছু বলা হয়নি। অনেকদিন আগেই সম্পাদক শম্ভু হালদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। আজকে বাগান বিক্রি করে সে পালিয়ে গিয়েছে।’ এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্য শংকর মণ্ডল বলেন, ‘মৎস্যজীবী সমিতির সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে এটা সত্য। আমি এই পোস্টারের দেখেছি মৎস্যজীবীর সমিতির অনেক সম্পত্তি ছিল। বামফ্রন্টের সময়ও সম্পত্তি তছরুপ হয়েছে। তৃণমূলের আমলেও তছরুপ হয়েছে। আমরা চাই মৎস্যজীবীরা যে দাবি তুলেছেন, সেটাকে তদন্ত করে দেখা হোক। তাঁদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

আরও পড়ুন: অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল টাকা, যন্ত্র এনে গুণলো পুলিশ

মালদা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘সাহাপুরে যে মৎস্যজীবীদের অফিসে পোস্টার করেছে যাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, আমরা চাই এই পোস্টারে যে প্রশ্ন উঠেছে তা তদন্ত করে দেকা হোক। আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গোটা তদন্ত করা হোক। যে দোষী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যে সম্পত্তি লুট হয়েছে, তা যাতে ফিরিয়ে আনা হয়।’