ধূপগুড়ির সমবায়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি, পুলিশের জালে প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান

Sand Mafia Arrest Photo-SNS

ফের বঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ। জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অধীনে ধূপগুড়ির গোঁসাইহাট সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের ঘটনা প্রায় তিন বছর আগের। তাও আবার লাখে নয়, প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা তৃণমূলের নেতা হওয়ায় তৎকালীন সরকারের আমলে তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরে পুরোনো মামলার ফাইল খুলতেই শুক্রবার রাতে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান কমল রায় ও তাঁর সঙ্গী সুব্রত রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধূপগুড়ি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত বিশ্বাস তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে গোঁসাইহাটের আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সময়ে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন আলিপুরদুয়ারের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। বিজেপির অভিযোগ, তাঁর আমলেই আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। প্রশান্তের কথায়, আমার ভাই ওই সমবায় ব্যাঙ্কের এজেন্ট ছিল। গ্রাহকরা তাঁদের টাকা ফেরত চাইলে কমল রায় জানিয়েছিলেন, ওই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। ভাইকে সেই জন্য হেনস্থাও হতে হয়েছে।

অন্যদিকে সৌরভ বলেন, ‘ওই সমবায় সমিতির বোর্ডের ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর সঙ্গে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কোনও সম্পর্ক নেই।’ ধৃত কমল রায়ের কথায়, ‘সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ও সমবায় সমিতির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কোনও দুর্নীতি হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি ঋণ যথাযথ সিকিউরিটি দিয়ে নিয়েছিলাম।’


এই ঘটনার পর ধূপগুড়ি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কো-অপারেটিভ ডিরেক্টরেট ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অডিটে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রমাণ পাওয়ার পরেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্ত এগোলে ধীরে ধীরে আরও অনেকের নাম প্রকাশ্যে আসবে।