বিজয় মিছিল নয়, স্পষ্ট বার্তা কমিশনের

রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হয় সোমবার। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতে না আসতেই গণনাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।

সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘সব জায়গায় আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি নেই। যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, সেই অনুযায়ীই সব করা হয়েছে।’ বিজয় মিছিল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে জেলা শাসকরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণনার দিন কোনও রাজনৈতিক দলই বিজয় মিছিল করতে পারবে না। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়েও তিনি আশ্বাস দেন।


উল্লেখ্য, রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ফল ঘোষণার দিনেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তায়।

এর আগেই রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সিইও জানিয়েছিলেন, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে থাকবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরে মোতায়েন থাকবেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তিনি আরও বলেন, কোনও স্তরে গাফিলতি ধরা পড়লে তার দায় সংশ্লিষ্ট স্তরের কর্মীদেরই নিতে হবে। এই কড়া নজরদারির মাধ্যমেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ গণনা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ২৪২ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকও। যদিও তাঁদের গণনাকক্ষের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নেই, তাঁরা বাইরে থেকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

এদিকে, ভোট গণনার আগের রাতেই দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন। ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারচুপির আশঙ্কার অভিযোগ তুলে তিনি কর্মীদের সজাগ থাকার বার্তা দেন। সবমিলিয়ে, গণনার দিন শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।