অভিষেকের বিরুদ্ধে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নয়, নির্দেশ হাইকোর্টের

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ওই এফআইআর খারিজের আর্জি জানালেও তা নাকচ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। । বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য  এই মামলার শুনানিতে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেন।  একটি সর্বভারতীয় দলের শীর্ষ পদে থাকা নেতা কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী হিংসার ইতিহাস থাকা রাজ্যে নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেও পর্যবেক্ষণ বিচারপতির।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। যদি তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করেন, তা হলে পুলিশ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

অভিষেকের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  তাঁর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘আপনি বলছেন আপনার মক্কেল সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তিন বারের সাংসদ। তিনি কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন? নির্বাচনের আগে কেন এমন করা হবে? যে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার মতো কালো ইতিহাস রয়েছে।‘


তিনি যুক্তি দেন, রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় জনসভা থেকে আবেগের বশে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে ফেলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  অমিত শাহের মন্তব্যের উদাহরণও টানেন তিনি। তবে সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অন্য কারও মন্তব্য নয়, আদালত শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়েই বিচার করছে। তাঁর মতো দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।