গোরু কাটা, কুরবানির নিয়ম এবং জাতীয় সঙ্গীতকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে রাজ্যে। হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন বিজেপি নেত্রী ও আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের কড়া পাল্টা দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গ দেশের বাইরে নয়, আর কেউই দেশের সংবিধানের উপরে নন।‘
প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল বলেন, গোরু জবাই সংক্রান্ত যে সরকারি নোটিফিকেশন বা আইন রয়েছে, তা নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে এবং তা রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিককেই মানতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘আইন সবার জন্য সমান। কেউ যদি সেই নিয়ম না মানেন, তাহলে প্রশাসনের দায়িত্ব হবে তাঁকে আইন মানতে বাধ্য করা।‘
তিনি আরও দাবি করেন, গোরু জবাই সংক্রান্ত আইনে স্পষ্ট দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। প্রথমত, ১৪ বছরের নিচে কোনও গরু জবাই করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, কোনও পশুকে জবাই করতে হলে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল বা সরকারি সার্টিফিকেট থাকতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে পশুটি গুরুতরভাবে অসুস্থ বা অক্ষম এবং তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। সেই ধরনের শংসাপত্র ছাড়া গোরু কাটা আইনত বৈধ নয় বলেও জানান তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি নেত্রী। কুরবানির স্থান নিয়েও তিনি কড়া অবস্থান নেন। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট অনুমোদিত জায়গা ছাড়া রাস্তা, আবাসিক এলাকা বা জনবহুল অঞ্চলে কোনওভাবেই পশু জবাই করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আইন ভাঙা হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। প্রকাশ্যে বা আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কাজের অনুমতি নেই।‘
জাতীয় সঙ্গীত ও বন্দেমাতরম প্রসঙ্গেও সরব হন প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মুসলিমরা কি ভারতের নাগরিক নন? যদি ভারতের মধ্যেই থাকেন, তাহলে ‘জনগণমন’ বা ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে সমস্যা কোথায়?’ তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি কোনওভাবেই হিন্দু-মুসলিমের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের প্রতি সম্মান ও সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রশ্ন।প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত বা বন্দেমাতরম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। যারা এই দেশের নাগরিক, তাদের দেশের জাতীয় সঙ্গীত ও মাতৃভূমির গানকে সম্মান করতেই হবে।‘